যৌতুকের কূটাভাসে শুধুই বদলেছে চাহিদার মোড়াক

যৌতুকের কূটাভাসে শুধুই বদলেছে চাহিদার মোড়াক

By ~ June 10, 2026 ~ 1 min read

যৌতুকের পরিবর্তিত রূপ ও অপরিবর্তিত চাহিদা

সমাজ থেকে যৌতুক প্রথা নির্মূলের জন্য আইন ও সচেতনতা বৃদ্ধি পেলেও, এর মূল চরিত্র ও চাহিদা এখনও সমাজে গভীরভাবে প্রোথিত। আপাতদৃষ্টিতে মনে হতে পারে যে যৌতুকের প্রকাশ্য দাবি কমেছে, কিন্তু বাস্তবে এর মোড়ক বা উপস্থাপনার ধরন বদলেছে মাত্র। এই কূটাভাসই বর্তমান সামাজিক বাস্তবতার এক গুরুত্বপূর্ণ দিক, যা ইঙ্গিত দেয় যে সমস্যার গভীরে প্রবেশ করা এখনও বাকি।

একসময় যেখানে সরাসরি নগদ অর্থ বা মূল্যবান সামগ্রী যৌতুক হিসেবে চাওয়া হতো, এখন সেখানে ‘উপহার’, ‘অনুদান’ কিংবা ‘নবদম্পতির জন্য সহযোগিতা’র মতো শব্দ ব্যবহার করা হচ্ছে। বিয়ের সময় কনেপক্ষের কাছ থেকে বিভিন্ন অজুহাতে অর্থ বা সম্পদ আদায়ের প্রবণতা এখনও বিদ্যমান। কখনও তা নতুন সংসার পাতার খরচ হিসেবে, কখনও আসবাবপত্র বা ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী কেনার আবদার হিসেবে, আবার কখনও বা ছেলের উচ্চশিক্ষা বা ব্যবসার জন্য ‘সহায়তা’ হিসেবে উপস্থাপিত হয়। এই পরিবর্তিত রূপগুলো যৌতুকের মূল ধারণাকেই ভিন্ন মোড়কে পরিবেশন করে, যা আইনগতভাবে যৌতুক না হলেও কার্যত একই ফল বয়ে আনে।

এই পরিবর্তন সত্ত্বেও, চাহিদার মূল ভিত্তিটি অপরিবর্তিত রয়ে গেছে। কনেপক্ষকে আর্থিকভাবে দুর্বল করে বা তাদের উপর চাপ সৃষ্টি করে কিছু আদায় করার মানসিকতা এখনও অনেক ক্ষেত্রে সক্রিয়। সামাজিক মর্যাদা, আর্থিক নিরাপত্তা এবং কখনও কখনও ছেলের পরিবারের উচ্চাকাঙ্ক্ষা এই চাহিদাকে জিইয়ে রাখে। আইনগতভাবে যৌতুক নিষিদ্ধ হলেও, সামাজিক চাপ এবং প্রচ্ছন্ন হুমকির কারণে অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে এই অলিখিত দাবিগুলো পূরণ করে, যা নারী নির্যাতন ও পারিবারিক কলহের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

এই কূটাভাস প্রমাণ করে যে শুধু আইন প্রণয়নই যথেষ্ট নয়, বরং সমাজের গভীরে প্রোথিত এই মানসিকতার পরিবর্তন আনা জরুরি। যতক্ষণ না যৌতুকের প্রতি মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি এবং এর পেছনের আর্থিক ও সামাজিক চাপগুলো দূর হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত এর মোড়ক বদলালেও মূল সমস্যাটি থেকেই যাবে। এই সামাজিক ব্যাধি থেকে মুক্তি পেতে প্রয়োজন ব্যাপক জনসচেতনতা এবং সম্মিলিত সামাজিক প্রতিরোধ।

X

Stay tuned

Subscribe to our newsletter for updates, tutorials, and stories.