গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলা কয়েক দিনের তীব্র তাপপ্রবাহে পুড়ছিল, যেখানে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরে অবস্থান করছিল। অসহনীয় গরম, ঘন ঘন লোডশেডিং এবং অস্বস্তিকর আবহাওয়ায় জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল। অবশেষে বৃহস্পতিবার রাতে আকস্মিক বৃষ্টিতে পুরো উপজেলা জুড়ে স্বস্তি নেমে এসেছে।
আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ দিন ধরে কালিয়াকৈরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিল। বৃহস্পতিবার দুপুরের পর থেকেই আকাশে মেঘের ঘনঘটা দেখা যায় এবং রাত ১০টার দিকে হালকা বৃষ্টি শুরু হয়। প্রায় ৩০ মিনিটের এই বৃষ্টিতে রাস্তাঘাট ভিজে ঠান্ডা হয়ে যায় এবং তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে আসে।
বৃষ্টির পরপরই কালিয়াকৈর বাজার, চন্দ্রা ও সফিপুর এলাকার মানুষজন রাস্তায় নেমে আসেন। দোকানিরা দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে বৃষ্টি উপভোগ করেন এবং শিশু-কিশোররা বৃষ্টিতে ভিজে আনন্দে মেতে ওঠে।
কালিয়াকৈর পৌরসভার বাসিন্দা আমেনা বেগম তার অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, “পাঁচ দিন ধরে গরমে রাতে ঘুমাতে পারিনি। বিদ্যুৎও ছিল না। আজকের বৃষ্টিতে শরীর-মন দুটোই ঠান্ডা হয়ে গেছে। এটা আল্লাহর রহমত।”
সফিপুরের কৃষক নূর হোসেন জানান, “গরমে সবজির জমি ফেটে যাচ্ছিল। আজকের বৃষ্টিতে জমিতে পানি পেয়েছে। আল্লাহ বাঁচিয়েছেন, না হলে ফসলের বড় ক্ষতি হতো।”
আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, বঙ্গোপসাগর থেকে আসা জলীয় বাষ্প এবং পশ্চিমা লঘুচাপের প্রভাবে কালিয়াকৈরসহ গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হচ্ছে। আগামী ২-৩ দিন এমন বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে, তবে তাপমাত্রা খুব বেশি কমবে না বলে তারা উল্লেখ করেন।
টানা লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত বিদ্যুৎ ব্যবস্থাও বৃষ্টির পর কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে। বিদ্যুতের চাহিদা কমে যাওয়ায় সন্ধ্যার পর লোডশেডিংয়ের মাত্রা কমে আসে, এতে গ্রাহকরা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।
দাবদাহের পর এই স্বস্তির বৃষ্টি কালিয়াকৈরের মানুষের কাছে আশীর্বাদ হয়ে এলেও, স্থানীয়রা বৃষ্টির পানি জমে নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন। তারা পৌর কর্তৃপক্ষকে ড্রেন পরিষ্কারে নজর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
