মুক্তাগাছায় প্রান্তিক পেশাজীবীদের জন্য ১০ দিনব্যাপী সফট স্কিল প্রশিক্ষণ শুরু

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় প্রান্তিক পেশাজীবীদের জীবনমান উন্নয়নে একটি ১০ দিনব্যাপী সফট স্কিল প্রশিক্ষণ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন সমাজসেবা অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়িত ‘বাংলাদেশের প্রান্তিক পেশাজীবী জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন (২য় পর্যায়)’ প্রকল্পের আওতায় এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

সোমবার, ৯ জুন ২০২৬, উপজেলা পরিষদ হলরুমে এই প্রশিক্ষণের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়। আগামী ১৮ জুন ২০২৬ পর্যন্ত চলমান এই কর্মসূচিতে উপজেলার নির্বাচিত প্রান্তিক পেশাজীবীরা অংশগ্রহণ করছেন, যা তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জনে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথিবৃন্দ

প্রশিক্ষণ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কৃষ্ণ চন্দ্র। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহের জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক রাজু আহমেদ এবং টাঙ্গাইল জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক তৌহিদুল ইসলাম। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) লুবনা আক্তার লুনা, সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা তানবীর আহম্মেদ, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সাখাওয়াত হোসেন, আইসিটি কর্মকর্তা মানজুর রহমান, মুক্তাগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম, ভেটেনারি সার্জন আনোয়ার পারভেজ নিহনসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, গণমাধ্যমকর্মী এবং প্রশিক্ষণার্থীরা।

প্রশিক্ষণের বিষয়বস্তু ও লক্ষ্য

বিশেষ অতিথিরা তাদের বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, এই প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীদের ক্ষুদ্র ব্যবসায়িক দক্ষতা, কর্মসংস্থান সক্ষমতা, বাজার ব্যবস্থাপনা, বিপণন কৌশল এবং ব্যক্তিগত উন্নয়ন বিষয়ে ধারণা দেওয়া হবে। তারা আরও আশা প্রকাশ করেন যে, এর মাধ্যমে প্রান্তিক পেশাজীবীদের দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে, নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি হবে এবং অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জনের সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে।

প্রশিক্ষণের প্রথম দিনে প্রকল্পের কার্যক্রমভিত্তিক ভিডিও প্রদর্শন করা হয়। এছাড়াও অতিথিরা তাদের মূল্যবান বক্তব্য রাখেন এবং অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন, যা প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দিতে সাহায্য করে।

প্রকল্পের জাতীয় পরিধি

উল্লেখ্য, ‘বাংলাদেশের প্রান্তিক পেশাজীবী জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন (২য় পর্যায়)’ প্রকল্পের আওতায় সারাদেশে প্রায় ৪ লাখ ২৭ হাজার প্রান্তিক ও আদিবাসী পেশাজীবীকে প্রশিক্ষণ, উৎপাদন সহায়তা, বিপণন সুবিধা এবং আর্থিক প্রণোদনা প্রদান করা হচ্ছে। এই প্রকল্পটি কামার, কুমার, বাঁশ-বেত শিল্প, কাঁসা-পিতল শিল্প, তাঁত, লোকজ বাদ্যযন্ত্র নির্মাণ, নকশিকাঁথা ও শীতলপাটি তৈরিসহ মোট ১০টি পেশার কর্মীদের উন্নয়নে কাজ করছে, যা তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।