নবাবগঞ্জে হত্যা মামলায় নারী আসামির আত্মসমর্পণ, কারাগারে প্রেরণ

ঢাকার নবাবগঞ্জের নয়াকান্দা বাজারে মোখলেছুর রহমান হত্যা মামলায় পারভীন নামের এক নারী আসামি আত্মসমর্পণ করেছেন। আজ রোববার ঢাকার ৩ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে তিনি আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন জানান। আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আহমদ উল্লাহ আমান জামিন শুনানি পরিচালনা করেন। তবে শুনানি শেষে বিচারক শ্যাম সুন্দর জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আদেশে বিচারক উল্লেখ করেন যে, এটি একটি হত্যা মামলা এবং ইতিমধ্যে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। আসামি ইতিপূর্বে জামিনের শর্তের অপব্যবহার করে পলাতক ছিলেন। জেলা ও দায়রা জজ আদালত তাকে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিলেও তিনি তা মানেননি। এদিকে, ট্রাইব্যুনালের আদেশের পর আসামি পারভীনকে ঢাকার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের হাজতখানায় নেওয়ার সময় তার স্বজনরা সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হন। জেলা প্রশাসক কার্যালয় প্রাঙ্গণে ফুটেজ নেওয়ার সময় স্বজনরা মব সৃষ্টি করেন এবং ভিডিও ডিলিট করার জন্য সাংবাদিকদের চাপ প্রয়োগ করেন।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে নয়াকান্দা বাজারে মোখলেছুর রহমানকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনার পরদিন তার স্ত্রী বিলকিছ বেগম নবাবগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে গত বছরের ৩১ আগস্ট নবাবগঞ্জ থানার এসআই দেলোয়ার হোসেন পারভীনসহ ২০ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। মামলার অপর আসামিরা হলেন দেলোয়ার, মাহফুজ হাসান ওরফে শাওন, হিমেল দেওয়ান, মহিউদ্দিন, তোফায়েল, মোহাম্মদ ইমরান শেখ, ইউসুফ আহম্মেদ কায়েস ওরফে কয়েজ, জামাল, জামিল খা ওরফে দুলাল, সুরাইয়া, মোজাম্মেল, বিল্লাল হোসেন, জমিলা খাতুন, সোহরাব হোসেন, মোকছেদ ওরফে মোখলেছুর রহমান, মনির ওরফে মনির হোসেন, ইব্রাহীম বাবু ওরফে তানভীর ইসলাম ইব্রাহীম এবং আবুল।

তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি রাতে আসামি জামাল মোখলেছুরের ভাতিজা মোসলেহ উদ্দিন পায়েলের কাছে মোটরসাইকেল চাইলে পায়েল তা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে জামাল তাকে গালিগালাজ করে। মোখলেছুর বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নিলে আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে ১১ এপ্রিল বিকেলে তাকে পিটিয়ে হত্যা করে। গত ২৫ জুন ট্রাইব্যুনাল চার্জশিট গ্রহণ করে পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত