নিট প্রশ্নফাঁস: শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চায় মোদী সরকার

ভারতের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা বা নিট-এর প্রশ্নফাঁস ও দুর্নীতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে চলমান উত্তাল পরিস্থিতির মধ্যে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় বসার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে নরেন্দ্র মোদী সরকার। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং জানিয়েছেন, সরকারের পক্ষ থেকে আন্দোলনকারীদের কাছে এখন পর্যন্ত চারবার আনুষ্ঠানিক সংলাপের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) জিতেন্দ্র সিং বলেন, সরকার শিক্ষার্থীদের সুবিধাজনক সময় ও বিষয়ে আলোচনার জন্য আহ্বান জানিয়েছে। এই আলোচনায় কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং বিজেপি সভাপতি জে. পি. নাড্ডাও উপস্থিত থাকবেন। মন্ত্রী আরও জোর দিয়ে বলেন, সরকার এই বিষয়টিকে কোনোভাবেই অহংকারের লড়াই হিসেবে দেখছে না এবং আলোচনার মাধ্যমেই এই সংকটের সমাধান সম্ভব বলে তারা বিশ্বাস করেন।

তবে সরকারের প্রস্তাবিত আলোচনার স্থান প্রত্যাখ্যান করেছে আন্দোলনকারীদের সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। সংগঠনটির নেতারা স্পষ্ট জানিয়েছেন, কোনো মন্ত্রীর বাসভবন বা কার্যালয়ে তারা বৈঠকে যাবেন না। তাদের দাবি, আলোচনা করতে হলে মন্ত্রীদের যন্তর মন্তরের আন্দোলনস্থলে অথবা কোনো নিরপেক্ষ স্থানে আসতে হবে।

যন্তর মন্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেন, জনতার আদালত এখন রাজপথেই বসেছে, তাই জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে মন্ত্রীদের উচিত আন্দোলনস্থলে এসে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলা। তবে তিনি এও জানিয়েছেন, যদি নিরাপত্তার কারণে যন্তর মন্তরে বৈঠক করা অসম্ভব হয়, তবে কাছাকাছি কোনো নিরপেক্ষ স্থানে আলোচনায় বসতে তাদের আপত্তি নেই।

আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে আরও দাবি জানানো হয়েছে যে, আন্দোলনে অংশ নেওয়া কোনো শান্তিপূর্ণ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে নতুন করে যেন কোনো মামলা বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, সে বিষয়ে সরকারকে লিখিত নিশ্চয়তা দিতে হবে।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিট প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি বিশেষ দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার এই আন্দোলনের জেরে দিল্লিতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয় এবং সাময়িকভাবে ১৭টি মেট্রোরেল স্টেশন বন্ধ রাখা হয়, যার ফলে শিক্ষার্থী ও সাধারণ যাত্রীরা ব্যাপক ভোগান্তির শিকার হন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর অবশ্য স্টেশনগুলো পুনরায় খুলে দেওয়া হয়। আন্দোলনকারীদের দাবি, দিল্লির বাইরে বিহার, গোয়া, মুম্বাই ও রাজস্থানসহ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যেও এই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে এবং এটি এখন জাতীয় পর্যায়ে রূপ নিয়েছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত