নেত্রকোনার মদন উপজেলার নায়েকপুর ইউনিয়নের আলমশ্রী গ্রামে এক ব্যক্তির লাশ দাফন শেষে বাড়ি ফেরার পথে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আজ রোববার দুপুরে ঘটা এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৩৮ জন আহত হয়েছেন। সংঘাতের সময় বেশ কিছু ঘরবাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
গুরুতর আহত এমদাদুল হক (৩৭), সাইফুল ইসলাম (৩০), সজীব মিয়া (২৫), প্রান্ত মিয়া (৩০), আবুল কাশেম (৩৮), মুনায়েম (৩০), রামিন (১৩), সিফাত (১৫), রোশনারা আক্তার (৩৫), রাকিবা আক্তার (৪০) ও নুরজাহান আক্তারকে (৭৮) ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ছাড়া আহত অন্যদের মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পার্শ্ববর্তী কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আলমশ্রী গ্রামের নায়েকপুর ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান সদস্য ফারুক মিয়ার সঙ্গে একই গ্রামের সাবেক সদস্য বেবুল মিয়ার দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল। কয়েক দিন আগে ফারুকের খালাতো ভাই জামাল মিয়া অটোরিকশা নিয়ে আলমশ্রী বাজারের দিকে যাওয়ার সময় বেবুল মিয়া ও কামরুল হাসানের লোকজন তাঁর পথ আটকে দেন। ওই সময় ফারুকের মামাতো ভাই হৃদয় মিয়া জামালের পক্ষে অবস্থান নিলে তাঁকে মারধর করা হয়। গ্রামে সালিশ বৈঠক হলেও বিষয়টি মীমাংসা হয়নি, যার ফলে ফারুক মিয়ার লোকজন আলমশ্রী বাজারে যাতায়াত বন্ধ রেখেছিলেন। গত শুক্রবার ফারুকের এক ভাতিজা ঢাকায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। আজ দুপুরে গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। দাফন শেষে ফেরার পথেই দুই পক্ষের মধ্যে এই সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।
বেবুল মিয়া অভিযোগ করে বলেন, ফারুক মেম্বার হওয়ার পর থেকে এলাকায় একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রাখতে চান এবং ভবিষ্যতে যেন কেউ নির্বাচনে প্রার্থী হতে না পারে, সেজন্য লোকজনকে মারধর করেন। আজ লাশ দাফন শেষে তারা রাস্তায় অবস্থান নিলে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
অন্যদিকে ফারুক মিয়া দাবি করেন, এটি একটি পূর্বপরিকল্পিত হামলা। তাঁর ভাষ্যমতে, বাড়ির সামনের হাওরে প্রতিবছর কোটি টাকার মাছ কেনাবেচা হয় এবং তাকে মারধর করে গ্রামছাড়া করতে পারলে বেবুল মিয়া ও কামরুল হাসান হাওরটি দখল করে মোটা অঙ্কের টাকা আয় করতে পারবে।
মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সালাহউদ্দিন করিম জানান, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই এই সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি; অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

