বিশ্ব পরিবেশ দিবসে পটুয়াখালীতে ভাগাড় অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন

বিশ্ব পরিবেশ দিবসে পটুয়াখালীতে ভাগাড় অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন

By ~ June 6, 2026 ~ 1 min read

বিশ্ব পরিবেশ দিবসে যখন সারা দেশে পরিবেশ সংরক্ষণে বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হচ্ছে, ঠিক তখনই পটুয়াখালী সদর উপজেলার লোহালিয়া ইউনিয়নের ইদ্রাকপুর গ্রামের বাসিন্দারা পরিবেশ দূষণের প্রতিবাদে এক মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, শিশু পার্ক ও বিনোদন কেন্দ্র নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে অধিগ্রহণ করা জমিতে পটুয়াখালী পৌরসভার বর্জ্য ফেলা হচ্ছে, যার ফলে দুর্গন্ধ ও পরিবেশ দূষণে এলাকার মানুষের জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।

শুক্রবার (৫ জুন) সকালে ইদ্রাকপুর গ্রামে আয়োজিত এই মানববন্ধনে প্রায় দুই শতাধিক নারী, পুরুষ ও শিশু অংশ নেন। তারা অবিলম্বে লোকালয় থেকে বর্জ্য অপসারণ এবং একটি পরিবেশবান্ধব আধুনিক ডাম্পিং জোন স্থাপনের জোর দাবি জানান। একই সঙ্গে, পটুয়াখালী পৌরসভার সাবেক মেয়র মহিউদ্দিন আহম্মেদসহ সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগও তোলেন আন্দোলনকারীরা।

জমি অধিগ্রহণে প্রতারণার অভিযোগ

মানববন্ধনে বক্তারা জানান, ২০২২ সালে পটুয়াখালী পৌরসভার তৎকালীন মেয়র, পৌরসভার কর্মকর্তারা এবং জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধিরা ইদ্রাকপুর গ্রামের প্রায় ৪.৫২ একর জমি অধিগ্রহণের উদ্যোগ নেন। সে সময় জমির মালিক ও এলাকাবাসী আপত্তি জানালে তাদের আশ্বস্ত করা হয়েছিল যে সেখানে একটি শিশু পার্ক ও বিনোদন কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। কিন্তু পরবর্তীতে সেই জমিতে পৌরসভার অস্থায়ী বর্জ্য ফেলার স্থান বা ভাগাড় স্থাপন করা হয়, যা এলাকাবাসীর সঙ্গে প্রতারণার শামিল বলে অভিযোগ করা হয়।

জনজীবনে মারাত্মক প্রভাব

ভুক্তভোগীরা দাবি করেন, ভাগাড় থেকে ছড়িয়ে পড়া তীব্র দুর্গন্ধে তাদের স্বাভাবিক জীবনযাপন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। শিশু, বৃদ্ধ ও নারীরা নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন। এই বিষয়টি নিয়ে বারবার প্রশাসন ও পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে তারা অভিযোগ করেন।

  • স্থানীয় বাসিন্দা ইকরামুল কবীর বলেন, এলাকাবাসীর আপত্তি সত্ত্বেও তার বসতবাড়ির সামনে পৌরসভার সব বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ও পৌর প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেও কোনো প্রতিকার মেলেনি।
  • জমির মালিক মোস্তাক মাহামুদ অভিযোগ করেন, শিশু পার্ক নির্মাণের আশ্বাস দিয়ে তার জমি অধিগ্রহণ করা হলেও এখন সেখানে শহরের সব বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। দুর্গন্ধে নিজ বাড়িতে বসবাস করাও তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
  • স্থানীয় বাসিন্দা সুলতান প্যাদা জানান, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে তার বসতঘরের পাশে নিয়মিত ময়লা ফেলা হচ্ছে। দুর্গন্ধ ও স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে তার স্ত্রী ও শিশু সন্তানকে অন্যত্র আশ্রয় নিতে হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, তার সন্তান একাধিকবার শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হয়েছে।
  • একই অভিযোগ করেন স্থানীয় বাসিন্দা মাহিনুর আক্তার। তিনি বলেন, ভাগাড়ের দুর্গন্ধে এলাকার প্রায় ৪০ জন বাসিন্দার জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে, বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে শ্বাসকষ্টের সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
  • স্থানীয় বায়তুর নূর জামে মসজিদ-এর পেশ ইমাম মো. এনায়েত কবীর বলেন, ভাগাড়ের আশপাশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ ও ঘনবসতি রয়েছে। শহরের মানুষের সুবিধার জন্য গ্রামের পরিবেশ নষ্ট করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

আধুনিক ডাম্পিং জোন নির্মাণের আশ্বাস

এ বিষয়ে মো. জুয়েল রানা জানান, লোহালিয়া এলাকায় একটি আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব ডাম্পিং জোন নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে এর কাজ শেষ হওয়ার কথা। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, নতুন ডাম্পিং জোন চালু হলে বর্তমান অস্থায়ী ভাগাড়টি অপসারণ করা হবে এবং সমস্যার সমাধান হবে।

তবে, জমি অধিগ্রহণের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

X

Stay tuned

Subscribe to our newsletter for updates, tutorials, and stories.