শারীরিক অসুস্থতাকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শিগগিরই তার পদ থেকে অব্যাহতি নিতে পারেন বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, তিনি তার দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন। আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আগের শীর্ষ সাংবিধানিক পদগুলোর মধ্যে তিনিই একমাত্র ব্যক্তি যিনি এখনও বহাল আছেন। বঙ্গভবন সূত্রমতে, সরকারের পক্ষ থেকে তাকে সুবিধাজনক সময়ে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের অনুরোধ জানানো হয়েছে। এর আগে, চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন যে সরকার চাইলে তিনি দায়িত্ব পালন করবেন, অন্যথায় স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করবেন।
রাষ্ট্রপতির এই সম্ভাব্য পদত্যাগের পেছনে রাজনৈতিক কারণও রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সরকার ও বিএনপির সূত্রগুলো বলছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্বাচিত হওয়ার কারণে তাকে পদত্যাগের জন্য বিএনপির উচ্চপর্যায় থেকে বার্তা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই যেন কোনো রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করাও সরকারের একটি লক্ষ্য।
গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মে মাসে লন্ডনে চিকিৎসার জন্য অবস্থানকালে রাষ্ট্রপতি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছিলেন। ৯ মে থেকে ১৮ মে পর্যন্ত তিনি লন্ডনে ছিলেন। বিএনপির এক জ্যেষ্ঠ নেতার মতে, পদত্যাগের বিষয়টি কেবল ওই ফোনালাপের কারণেই নয়, বরং শেখ হাসিনার ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফেরার পরিকল্পনার মতো জটিল পরিস্থিতিও এর পেছনে ভূমিকা রাখছে। সরকার এই পরিবর্তনের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি রোধে কঠোর বার্তা দিতে চায়।
গত ১৭ জুলাই মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আওয়ামী লীগ, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও তাদের সহযোগী সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে চলমান অভিযান জোরদারের নির্দেশ দেন। তবে গতকাল বুধবার পর্যন্ত বঙ্গভবন বা সরকারের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। বঙ্গভবনকেন্দ্রিক একটি সূত্র অবশ্য জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতি তার অধস্তন কর্মীদের বঙ্গভবন ছেড়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন এবং পদত্যাগের পর তিনি বিশ্রামে বা চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে পারেন। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে তিনি বলেছিলেন, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর মেয়াদের মাঝামাঝি সময়ে তিনি পদত্যাগ করতে চান।

