বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্প মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, জনগণের ভেতরে যে পারমাণবিক শক্তি থাকে, সেটি বিস্ফোরিত হলে ফ্যাসিস্টদের ময়ূরের সিংহাসন জ্বলে পুড়ে ছাই হয়ে যায়। তিনি উল্লেখ করেন যে, স্বৈরাচার ও নিপীড়নকারীরা বারবার জনগণের এই শক্তির কথা ভুলে যায়।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ছাত্রদল আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান: আত্মত্যাগ, সংগ্রাম ও বিজয়ে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের অবদান’ শীর্ষক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রিজভী ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানকে বাংলাদেশের ইতিহাসের এক যুগান্তকারী অধ্যায় হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, ফরাসি বিপ্লব, ইংল্যান্ডের গ্লোরিয়াস রেভল্যুশন, ১৯১৭ সালের রুশ বিপ্লব এবং নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানের মতোই জুলাইয়ের রক্তঝরা বিপ্লব ও ৫ আগস্টের পরিণতি ইতিহাসে অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
আন্দোলনের শহীদদের ত্যাগের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী, রিকশাচালক ও শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এই আন্দোলনে রক্ত দিয়েছেন। গত ১৭ বছর ধরে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও নির্যাতনের শিকার হওয়া বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের দীর্ঘ আন্দোলনের ধারাবাহিকতাতেই জুলাই বিপ্লবের এই সফল পরিণতি এসেছে বলে তিনি দাবি করেন।
শেখ হাসিনার কঠোর সমালোচনা করে রিজভী বলেন, হিটলার বা মুসোলিনির মতো স্বৈরশাসকরা অন্তত নিজের দেশকে শক্তিশালী করতে চেয়েছিল, কিন্তু শেখ হাসিনা ব্যাংক লুট, শেয়ারবাজার ধ্বংস, অর্থ আত্মসাৎ ও জমি দখলের মাধ্যমে দেশকে ধ্বংস করেছেন। তিনি বলেন, জনগণের শক্তির কাছে ৫ আগস্ট তারা শিমুল তুলার মতো উড়ে গেছে।
জুলাই আন্দোলনে বিএনপি ও ছাত্রদলের ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান শুরু থেকেই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মসূচিতে সমর্থন এবং জাতীয়তাবাদী শক্তিকে সম্পৃক্ত হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। ১৯ জুলাই গ্রেফতার হওয়ার আগে ১১ জুলাই থেকে তারেক রহমান ভার্চুয়ালি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নিয়মিত সমর্থন যুগিয়ে গেছেন। রিজভী আরও বলেন, ইতিহাস জোর করে বদলানো যায় না এবং কেউ যদি আজ এই বিপ্লবের কৃতিত্ব নিজেদের পাতে ঢালতে চায়, তবে ইতিহাস তা গ্রহণ করবে না। তিনি ১৭ বছরের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বেগম খালেদা জিয়ার ত্যাগ এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বের বিষয়টিও স্মরণ করিয়ে দেন।

