দান-খয়রাত ও সদকা যেভাবে বিপদ থেকে মুক্তি দেয়

আল্লাহর পথে দান করা দাতার রিজিক বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। কোনো ব্যক্তি যখন আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে ব্যয় করে, তখন আল্লাহতায়ালা তাকে প্রচুর প্রতিদান প্রদান করেন এবং তার সম্পদে বরকত দান করেন। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহ সুদকে নিশ্চিহ্ন করেন এবং দান-খয়রাতকে বর্ধিত করেন’ (সুরা বাকারা : ২৭৬)। সাধারণ মানুষের কাছে ধার দিলে অনেক সময় তা ফেরত পেতে টালবাহানা হয়, কিন্তু আল্লাহকে করজ দিলে তিনি তা বহুগুণ বাড়িয়ে ইহকাল ও পরকালে ফিরিয়ে দেন। আল্লাহ বলেন, ‘এমন কে আছে, যে আল্লাহকে করজ দেবে, উত্তম করজ। অতঃপর আল্লাহ তাকে দ্বিগুণ-বহুগুণ বৃদ্ধি করে দেবেন’ (সুরা বাকারা : ২৪৫)।

দৈনন্দিন জীবনে মানুষ বিভিন্ন বিপদাপদ ও দুর্ঘটনার সম্মুখীন হয়। আল্লাহর অসন্তুষ্টি, বালা-মসিবত এবং অকাল মৃত্যু থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার কার্যকর উপায় হলো সদকা বা দান-খয়রাত। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘দান-খয়রাত আল্লাহতায়ালার অসন্তুষ্টি কমিয়ে দেয় এবং মন্দ মৃত্যু রোধ করে’ (তিরমিজি : ৬৬৪)।

মানুষের প্রাত্যহিক জীবনের ভুল-ত্রুটি ও পাপ মোচনেও দান অত্যন্ত কার্যকর। আল্লাহর পথে দান করলে অন্যায় ও অপরাধ ক্ষমা করে দেওয়া হয়। আল্লাহ বলেন, ‘যদি তোমরা প্রকাশ্যে দান-খয়রাত করো, তবে তা কতই না উত্তম। আর যদি গোপনে করো এবং অভাবগ্রস্তদের দিয়ে দাও, তবে তা তোমাদের জন্য আরও উত্তম। আল্লাহ তোমাদের কিছু গোনাহ দূর করে দেবেন’ (সুরা বাকারা : ২৭১)। রাসুল (সা.) আরও বলেন, ‘দান-খয়রাত গোনাহসমূহ বিলীন করে দেয়, যেমন পানি আগুন নেভায়’ (সুনানে ইবনে মাজাহ : ৪২১০)।

আল্লাহর পথে দানের প্রতিদান অত্যন্ত বিশাল। এক টাকা দান করলে সাতশ গুণ সওয়াব পাওয়ার প্রতিশ্রুতি রয়েছে। আল্লাহ বলেন, ‘যারা আল্লাহর পথে স্বীয় ধন-সম্পদ ব্যয় করে, তাদের উদাহরণ একটি বীজের মতো; যা থেকে সাতটি শীষ জন্মায়। প্রত্যেকটি শীষে একশত করে দানা থাকে’ (সুরা বাকারা : ২৬১)। রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি হালাল উপার্জন থেকে সামান্য খেজুর পরিমাণও দান করে, আল্লাহ তা কবুল করেন এবং তা এমনভাবে লালন-পালন করেন যে, তা শেষ পর্যন্ত পর্বতের মতো বড় হয়ে যায় (বোখারি : ৭৪৩০)।

দানকারীর জন্য সবচেয়ে বড় পুরস্কার হলো কিয়ামতের দিন আল্লাহর আরশের ছায়া লাভ করা। রাসুল (সা.) বলেছেন, কিয়ামতের দিন সাত প্রকার মানুষকে আল্লাহ ছায়া দেবেন, যার মধ্যে অন্যতম হলো সেই ব্যক্তি যে গোপনে দান করে, যার ডান হাত যা দান করে তা বাম হাত জানতে পারে না (বোখারি : ১৪২৩)। এছাড়া দান কবরবাসীর কবরের উত্তাপও ঠান্ডা করে দেয় (সুনানে বাইহাকি : ৩৩৪৭)।