জার্মানিকে হারিয়ে টিকে গেলেন ইকুয়েডরের কোচ সেবাস্তিয়ান বেকাচ্চেচে

নিউ জার্সিতে রেফারি মেরি ভিক্টোরিয়া পেনসো শেষ বাঁশি বাজালে স্টেডিয়ামের ব্যারিকেড টপকে পরিবারের দিকে ছুটে গেলেন সেবাস্তিয়ান বেকাচ্চেচে। জার্মানিকে হারানোর পর ইকুয়েডরের এই আর্জেন্টাইন কোচ আবেগে ভাসছিলেন। তার জন্য এই মুহূর্তটি ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এটিই তার বিদায়ী ম্যাচ হতে পারত।

ম্যাচের পূর্বেই বেকাচ্চেচে ঘোষণা করেছিলেন যে, নকআউটে উত্তীর্ণ হতে ব্যর্থ হলে তিনি পদত্যাগ করবেন। ম্যাচের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছিলেন, আমরা সামনে এগোনোর সুযোগ পাচ্ছি। কিন্তু যদি না পারি, তাহলে একটি জায়গা ছেড়ে যেতে হবে যেটাকে আমি অনেক ভালোবাসি। তবে আমি জানি সব কিছু ফলাফলের ওপর নির্ভর করে।

কুরাসাওর সঙ্গে গোলশূন্য ড্রয়ের পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়েছিল। সেই ম্যাচের পর বেকাচ্চেচের পরিবারের সঙ্গে সমর্থকদের বাকবিতণ্ডার খবরও শোনা গিয়েছিল। কোচ নিজেই স্বীকার করেছিলেন, তিনি অত্যন্ত দুঃখিত যে ইকুয়েডরের সমর্থকদের মন জয় করতে পারেননি এবং যারা তাকে চেনেন না তাদের সঙ্গে একটি সংযোগ তৈরি করতে ব্যর্থ হয়েছেন।

তবে জার্মানিকে হারানোর পর পুরো চিত্রটি পাল্টে গেছে। বিবিসির ধারাভাষ্যকার ও সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক অ্যালান শিয়ারার বলেন, এই ম্যাচে না জিতলে তিনি চাকরিতে বহাল থাকতেন না। তিনি খেলোয়াড়দের কাছ থেকে প্রতিক্রিয়া চেয়েছিলেন এবং তা পেয়েছেন। তার পরিবার, ভক্ত ও বন্ধুদের সঙ্গে উদযাপন তার প্রাপ্য। তিনি ও তার খেলোয়াড়রা ঝুঁকি নিয়েছেন, লড়াই করেছেন এবং শেষ পর্যন্ত জিতেছেন।

৪৫ বছর বয়সী বেকাচ্চেচে খেলোয়াড় হিসেবে খুব পরিচিত ছিলেন না। তবে হোর্হে সাম্পাওলির সহকারী হিসেবে কোচিং জগতে তার পরিচিতি বাড়ে। চিলির সাফল্যের যুগে তিনি ২০১৪ বিশ্বকাপে এবং ২০১৫ সালে কোপা আমেরিকা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ২০১৮ বিশ্বকাপেও তিনি আর্জেন্টিনার সহকারী কোচ ছিলেন।

ইকুয়েডরের দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম ম্যাচেই ব্রাজিলের কাছে ১-০ ব্যবধানে হারলেও এরপর টানা ১১ ম্যাচ অপরাজিত ছিল তার দল। দক্ষিণ আমেরিকা থেকে দ্বিতীয় দল হিসেবে তারা বিশ্বকাপ নিশ্চিত করেছিল। ১৯ ম্যাচের অপরাজিত থাকার ধারাবাহিকতা নিয়ে বিশ্বকাপে এলেও শুরুটা ভালো হয়নি। আইভরি কোস্টের কাছে শেষ মুহূর্তে ১-০ ব্যবধানে হার ও কুরাসাওর সঙ্গে গোলশূন্য ড্র হয়েছিল। তবে জার্মানিকে হারিয়ে বেকাচ্চেচে প্রমাণ করলেন কেন তিনি এখনও এই দলের কোচ থাকার যোগ্য।