সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলায় এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় হতদরিদ্র নারীদের নামে লাখ লাখ টাকা ঋণ উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে, অথচ ঋণগ্রহীতারা নিজেরাই এ বিষয়ে সম্পূর্ণ অন্ধকারে। “উন্নত জাতের গাভী পালনের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত মহিলাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন” প্রকল্পের আওতায় শাহজাদপুর উপজেলা সমবায় কার্যালয় থেকে এই ঋণ বিতরণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
পোতাজিয়া গ্রামের কৃষক মোঃ জামরুল হাসানের স্ত্রী মোছাঃ শাপলা পারভীন, যিনি অন্যের জমিতে কাজ করে ও ট্রলি চালিয়ে স্বামীর সংসার চালান, তার নামেই ১ লাখ টাকার ঋণ উত্তোলন করা হয়েছে। চলতি বছরের মে মাসের শেষ সপ্তাহে এই ঋণ তোলা হলেও শাপলা পারভীন বা তার স্বামী জামরুল হাসান কেউই জানেন না কিভাবে তাদের ওপর এই ঋণের বোঝা চাপানো হলো। এমনকি তারা সমবায় অফিসে ঋণের জন্য কোনো আবেদনও করেননি।
একইভাবে, পোতাজিয়া ইউনিয়নের ভ্যানচালক ফজলুল হকের স্ত্রী মোছাঃ আসমা খাতুন ঋণের জন্য আবেদন করেছিলেন। তাকে অফিস থেকে জানানো হয়েছিল যে ঋণ পাশ হতে দেরি হবে। অথচ, উপজেলা সমবায় কার্যালয়ের ঋণগ্রহীতাদের তালিকায় আসমা খাতুনের নাম রয়েছে এবং মে মাসের শেষ সপ্তাহে তার নামেও ১ লাখ টাকা ঋণ উত্তোলন করা হয়েছে।
নুকালী গ্রামের সোবাহান প্রামানিকের স্ত্রী মোছাঃ ছালমা খাতুনও ঋণের জন্য আবেদন করেছিলেন। তাকেও জানানো হয় যে তার আবেদন এ বছর পাশ হয়নি। কিন্তু একই সময়ে ছালমা খাতুনের নামেও ১ লাখ টাকার ঋণ উত্তোলন করা হয়েছে। গ্রামের এই সহজসরল গৃহবধূদের মাথায় কিভাবে এমন ‘ভৌতিক’ ঋণের বোঝা চাপানো হলো, তার কোনো সঠিক জবাব উপজেলা সমবায় অফিসে পাওয়া যায়নি।
জানা গেছে, চলতি বছরে শাহজাদপুর উপজেলা সমবায় কার্যালয় থেকে “উন্নত জাতের গাভী পালনের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত মহিলাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন” প্রকল্পের আওতায় বাঘাবাড়ি সমিতির মাধ্যমে মোট ৮ জন মহিলাকে ১ লাখ টাকা করে ঋণ দেওয়া হয়। মে মাসের শেষ সপ্তাহে ঈদুল আজহার ছুটির আগে এই ৮ জন মহিলার নামে ঋণ উত্তোলন করা হলেও, ঋণগ্রহীতাদের অধিকাংশই এ বিষয়ে অবগত নন। ৮ জনের মধ্যে মাত্র দুইজন ঋণের টাকা পেয়েছেন বলে জানা গেছে, তবে বাকিদের নামে উত্তোলন হওয়া ঋণের টাকা কোথায় গেছে তা কেউ জানে না। এমন ভৌতিক ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে গ্রামের সহজসরল নারীরা এখন চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
সরজমিনে গিয়ে নুকালী গ্রামের মোছাঃ আসমা খাতুন, মোছাঃ ছালমা খাতুন এবং পোতাজিয়ার শাপলা পারভীন জানান, তাদের নামে কিভাবে ঋণ উত্তোলন হয়েছে তা তারা জানেন না। তারা প্রশ্ন তোলেন, এই ঋণের টাকা কে তুলে নিয়ে তাদের মাথায় চাপিয়ে দিয়েছে, তার জবাব অবশ্যই উপজেলা সমবায় অফিসকে দিতে হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মোঃ রবিউল রানা জানান, ঋণগ্রহীতাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে যাচাই-বাছাই করে বাঘাবাড়ি সমিতির মাধ্যমে মোট ৮ জনকে ১ লাখ টাকা করে ঋণ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ঈদুল আজহার ছুটির আগে তাদের প্রত্যেককে চেকের মাধ্যমে টাকা দেওয়া হয়েছে। তবুও কেন তারা টাকা পাননি, তা খতিয়ে দেখা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
