১৬ বছর পর বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন, ফাইনালে হারল আর্জেন্টিনা

অতিরিক্ত সময়ের নাটকীয় লড়াইয়ে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছে স্পেন। নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত এই ফাইনালে বদলি খেলোয়াড় ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলে ২০১০ সালের পর আবারও ফুটবলের সর্বোচ্চ আসরের ট্রফি ঘরে তুলল লা রোহা।

রোববার গভীর রাতে অনুষ্ঠিত এই ফাইনালের শুরু থেকেই বলের দখল ও আক্রমণে আধিপত্য বিস্তার করে খেলে স্পেন। তবে আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেসের দুর্দান্ত নৈপুণ্যে নির্ধারিত সময়ে কোনো দলই গোলের দেখা পায়নি। ম্যাচের ৬২তম মিনিটে মিকেল ওইয়ারসাবালের বদলি হিসেবে মাঠে নামেন ফেরান তোরেস। এরপর অতিরিক্ত সময়ের ১০৬তম মিনিটে ডান প্রান্ত থেকে পেদ্রো পোরোর বাড়ানো বল থেকে নিকো উইলিয়ামসের হেডে বল পেয়ে কাছ থেকে জোরালো শটে জয়সূচক গোলটি করেন তোরেস।

ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মোড় ঘুরে যায় নির্ধারিত সময়ের শেষ দিকে। পাউ কুবারসিকে বেপরোয়া ট্যাকল করায় দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার এনসো ফার্নান্দেসকে। এর ফলে শেষ পর্যন্ত ১০ জন নিয়েই খেলতে হয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। পুরো ম্যাচে আর্জেন্টিনা নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে পারেনি। অবাক করার মতো বিষয় হলো, তাদের প্রথম লক্ষ্যে থাকা শটটি আসে অতিরিক্ত সময়ের ১১৭তম মিনিটে, যখন লিওনেল মেসির শট স্পেনের রক্ষণভাগ আটকে দেয়। অন্যদিকে একের পর এক আক্রমণ চালিয়েও স্পেন দীর্ঘ সময় গোলের দেখা পায়নি।

এটি স্পেনের ইতিহাসে দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা। এর আগে ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রথমবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল তারা। ১৬ বছর পর আবারও বিশ্ব ফুটবলের সিংহাসনে বসলো ইউরোপের এই দলটি। এবারের বিশ্বকাপ ছিল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আসর। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে ৪৮টি দল নিয়ে অনুষ্ঠিত এই টুর্নামেন্টে মোট ১০৪টি ম্যাচ খেলা হয়েছে। ফাইনালের আগে পর্যন্ত টুর্নামেন্টে মোট ৩০৭টি গোল হয়েছে, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলের নতুন রেকর্ড।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত