সভা-সেমিনার ও প্রশিক্ষণের সম্মানীর ওপর কর ২০ শতাংশ

সভা-সেমিনার ও প্রশিক্ষণের সম্মানীতে কর বৃদ্ধি

সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে কর্মরত চাকরিজীবী, গবেষক ও শিক্ষকসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ নিয়মিতভাবে সভা, সেমিনার ও প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন। আয়োজক প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে এসব কাজে অংশ নেওয়ার জন্য তাঁদের একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ ভাতা ও সম্মানী প্রদান করা হয়। তবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত নতুন বাজেটে এই আয় বা প্রাপ্তির ওপর উৎসে করের হার বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

উৎসে কর ২০ শতাংশ করার প্রস্তাব

প্রস্তাবিত নতুন বিধান অনুযায়ী, এখন থেকে কোনো ব্যক্তি প্রাতিষ্ঠানিক সভায় অংশ নিয়ে যে ফি বা সম্মানী পাবেন, তার ওপর ২০ শতাংশ হারে উৎসে কর কর্তন করা হবে। আগে এই করের হার ছিল ১০ শতাংশ। দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান ফি বা সম্মানী প্রদানের সময় এই ২০ শতাংশ অর্থ কেটে রেখে অবশিষ্ট টাকা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে পরিশোধ করবে। একইভাবে প্রশিক্ষণ ভাতার ক্ষেত্রেও উৎসে কর ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২০ শতাংশে নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে অংশগ্রহণকারীরা আগের চেয়ে তুলনামূলক কম অর্থ হাতে পাবেন।

কারিগরিসহায়তার ফি ও করের হার

সম্মানী ও প্রশিক্ষণ ভাতার বাইরেও কোনো ব্যক্তি যদি কোনো বিষয়ে কারিগরিসহায়তা প্রদান করেন এবং তার বিনিময়ে কোনো ফি গ্রহণ করেন, তবে সেটির ওপরও করের হার বাড়ছে। নতুন অর্থবছর থেকে এই ফি প্রদানের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ১০ শতাংশের পরিবর্তে ১৫ শতাংশ হারে উৎসে কর কর্তন করবে।

সরকারি কর্মকর্তাদের ভাতা ও সম্মানীর প্রেক্ষাপট

সাধারণত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরাই সভা, সেমিনার ও প্রশিক্ষণে অংশ নিয়ে সবচেয়ে বেশি সম্মানী ও ভাতা পেয়ে থাকেন। গত বছর তাঁদের প্রশিক্ষণ ভাতা ও সম্মানী বৃদ্ধি করা হয়েছিল। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণে যুগ্ম সচিব ও তদূর্ধ্ব পর্যায়ের কর্মকর্তারা প্রতি ঘণ্টার ক্লাসের জন্য ৩ হাজার ৬০০ টাকা পেয়ে থাকেন। চতুর্থ ও পঞ্চম গ্রেড বা উপসচিব এবং তার নিচে পর্যায়ের কর্মকর্তারা পান ৩ হাজার টাকা।

প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে গ্রেড-৯ থেকে তার ওপরের স্তরের কর্মকর্তারা প্রতিদিন ১ হাজার ২০০ টাকা এবং গ্রেড-১০ থেকে নিচের স্তরের চাকরিজীবীরা প্রতিদিন ১ হাজার টাকা প্রশিক্ষণ ভাতা পান। এছাড়া কোর্স পরিচালক প্রতিদিন ২ হাজার টাকা, কোর্স সমন্বয়ক ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং সাপোর্ট স্টাফরা ১ হাজার টাকা সম্মানী পেয়ে থাকেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন সভায় অংশগ্রহণের জন্য সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দুই থেকে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত ভাতা পান, যা এখন থেকে বর্ধিত উৎসে করের আওতায় পড়বে।