র্যাবের টিএফআই সেলে গুম করে রাখার ঘটনায় বর্তমান ও সাবেক ১২ সেনা কর্মকর্তাসহ ১৭ আসামির বিরুদ্ধে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার পঞ্চম সাক্ষী, বেসরকারি চাকরিজীবী মাহমুদুল হাসানকে জেরা করা হয়েছে। সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাঁকে জেরা করেন। এই জেরার সময় মাহমুদুল হাসান আদালতকে জানান, কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমে (সিটিটিসি) তিনি একটি মুচলেকা প্রদান করেছিলেন। সেই মুচলেকায় তিনি অঙ্গীকার করেছিলেন যে, ভবিষ্যতে তিনি রাষ্ট্রবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকবেন না এবং স্বাভাবিক জীবন যাপন করবেন।
জেরার মুখোমুখি হয়ে মাহমুদুল হাসান আরও বলেন, তিনি জঙ্গিদের সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল কি না, তা তাঁর জানা নেই। এমনকি তিনি নারী সদস্যদের রিক্রুট করতেন বলে গণমাধ্যমে কোনো প্রতিবেদন এসেছিল কি না, সে বিষয়েও তিনি কোনো মন্তব্য করতে পারেননি। জেএমবির দক্ষিণ শাখার কমান্ডার হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেছিলেন কি না এবং এ সংক্রান্ত কোনো তথ্য মূলধারার গণমাধ্যমে এসেছিল কি না, সেটিও তিনি বলতে পারবেন না বলে উল্লেখ করেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. শাহীনুর ইসলামের জেরায় মাহমুদুল হাসান জানান, বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে তিনটি মামলা চলমান রয়েছে এবং সেসব মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। তবে তিনি ভয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলকারী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কোথাও কোনো প্রকার অভিযোগ করার সাহস করেননি বলে আদালতে স্বীকার করেন।
উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে র্যাবের টিএফআই সেলে গুম করে রাখার ঘটনায় করা এ মামলার ১০ জন আসামি বর্তমানে ঢাকা সেনানিবাসের সাবজেলে বন্দি রয়েছেন। তাঁরা হলেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, মো. কামরুল হাসান, মো. মাহাবুব আলম, কে এম আজাদ, কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন এবং আনোয়ার লতিফ খান (অবসর প্রস্তুতিমূলক ছুটিতে রয়েছেন)। এছাড়াও রয়েছেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মশিউর রহমান, সাইফুল ইসলাম এবং মো. সারওয়ার বিন কাশেম। সোমবার তাঁদের সাবজেল থেকে ট্রাইব্যুনালে এনে এজলাসে তোলা হয়। মামলার আরও সাত আসামি পলাতক রয়েছেন। তাঁরা হলেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তাঁর সাবেক উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, র্যাবের সাবেক মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ (যিনি পরবর্তীতে আইজিপি হয়েছিলেন), এম খুরশীদ হোসেন, মো. হারুন অর রশিদ এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মুহাম্মাদ খায়রুল ইসলাম।
