যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তিচুক্তি: হরমুজ প্রণালি খোলাসহ ১৪ বিষয় অন্তর্ভুক্ত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তিচুক্তি সম্পন্ন

যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি শান্তিচুক্তিতে উপনীত হয়েছে। এই চুক্তিতে মোট ১৪টি বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। তবে, এই বিষয়গুলো সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্র বা ইরানের কোনো কর্মকর্তার পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সোমবার ভোরে দুই দেশের মধ্যে শান্তিচুক্তিতে পৌঁছানোর ঘোষণা দেন। এর পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে একটি পোস্টের মাধ্যমে এই চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

চুক্তির ১৪টি বিষয়

ইরানের আধা সরকারি রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা মেহর নিউজ সমঝোতা স্মারকে থাকা ১৪টি বিষয়ের বিস্তারিত প্রকাশ করেছে। মেহরের খবরে বলা হয়েছে, নিষেধাজ্ঞার আওতায় জব্দ করা ইরানের তহবিলের অর্ধেক মুক্তি দেওয়া হবে। এছাড়া, ইরানের তেলের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং মার্কিন নৌ অবরোধ তুলে না নেওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত সমঝোতার আলোচনা শুরু হবে না।

চূড়ান্ত চুক্তিটি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের মাধ্যমে অনুমোদিত হবে বলেও জানানো হয়েছে।

হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে নিশ্চিত করেছেন যে, তিনি হরমুজ প্রণালিকে সম্পূর্ণভাবে টোলমুক্তভাবে চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার অনুমতি দিচ্ছেন। একই সঙ্গে, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর আরোপিত অবরোধ অবিলম্বে তুলে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

ট্রাম্প জাহাজগুলোকে ইঞ্জিন চালু করে তেল পরিবহণ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, শুক্রবার চুক্তিতে স্বাক্ষর এবং হরমুজ প্রণালি থেকে মাইন অপসারণের পর এই প্রণালির উভয় পাশ দিয়ে ওই অঞ্চল এবং পুরো বিশ্বের জন্য তেল পরিবহন স্বাভাবিক হবে।

ট্রাম্প উল্লেখ করেন যে, তিনি সেখানে সফল হয়েছেন যেখানে অন্য প্রেসিডেন্টরা ব্যর্থ হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এই মহান চুক্তি ওই পুরো অঞ্চলে শান্তি ও নিরাপত্তা নিয়ে আসবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘অনেক প্রেসিডেন্ট ইরানের সঙ্গে শান্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছেন এবং আমার আগে সবাই ব্যর্থ হয়েছেন। ওই অঞ্চলের নেতারা এই প্রথম একজন প্রেসিডেন্ট পেয়েছেন, যিনি প্রকৃত শান্তি অর্জনে তাদের সহায়তা করতে পারেন।’

ইসরাইলের প্রতিক্রিয়া

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই শান্তিচুক্তির ঘোষণা ইসরাইল সহজভাবে গ্রহণ করবে না বলে মনে করা হচ্ছে। আল–জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, ইসরাইলের ডানপন্থি সংবাদমাধ্যমগুলোয় ট্রাম্পের কঠোর সমালোচনা শুরু হয়েছে। এই সংবাদমাধ্যমগুলো ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর অনুগত হিসেবে পরিচিত।

উল্লেখ্য, অল্প কিছুদিন আগেও জনমত জরিপে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রীর চেয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা বেশি দেখা গিয়েছিল।

ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে বর্তমানে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে। ট্রাম্পের এই চুক্তির ঘোষণার ফলে ইসরাইল লেবাননে বোমাবর্ষণ বন্ধ করতে বাধ্য হতে পারে অথবা তাদের সেনা সরিয়ে নিতে পারে বা আগ্রাসন স্থগিত করতে পারে।