জুলাই বিপ্লবের মামলায় ট্রাইব্যুনালে সাক্ষী দিলেন শহীদ রাজনের ভাই

জুলাই বিপ্লব চলাকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন শহীদ ফয়জুল ইসলাম রাজনের বড় ভাই মো. রাজিব। এই মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ যুবলীগ ও ছাত্রলীগের শীর্ষ সাত নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। রোববার ট্রাইব্যুনালে তিনি ২৮তম সাক্ষী হিসেবে তার জবানবন্দি উপস্থাপন করেন।

নিজের জবানবন্দিতে মো. রাজিব জানান, তার বর্তমান বয়স আনুমানিক ৩৪ বছর এবং তিনি বর্তমানে কেরানীগঞ্জের উত্তর বাহেরচর এলাকায় বসবাস করছেন। তিনি জানান, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট সময়ে মিরপুর-১১ এলাকায় একটি প্রিন্ট ফ্যাক্টরিতে কর্মরত ছিলেন এবং ছোটবেলা থেকেই তিনি মিরপুর এলাকায় বেড়ে উঠেছেন। তার পরিবারে ২ ভাই ও ১ বোন রয়েছে। তার ছোট ভাই রাজন মিরপুর-১৩ এলাকার ঢাকা মডেল ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল এবং পড়াশোনার পাশাপাশি একটি কসমেটিক্সের দোকানে কাজ করত। ২০২৩ সালে রাজিব কেরানীগঞ্জে জমি কিনে বাড়ি করেন, যেখানে তার মা ও পরিবার বসবাস করত।

ঘটনার বিবরণে রাজিব জানান, তার ভাই রাজন ১৭ জুলাই থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেওয়া শুরু করে। ১৯ জুলাই ডিউটি শেষ করে তিনি কেরানীগঞ্জের বাড়িতে পৌঁছালে তার মা জানান যে তিনি রাজনের সাথে যোগাযোগ করতে পারছেন না। দুপুর ১২টার দিকে রাজনের সাথে মায়ের সর্বশেষ কথা হয়েছিল। সন্ধ্যার দিকে এক অপরিচিত নারী ফোন করে মাকে জিজ্ঞাসা করেন, তিনি রাজনের মা কিনা এবং তার পাশে কেউ আছে কিনা। এরপর মা তাকে ফোন করে জানান যে, তার ছোট ভাই রাজন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করতে রাজিব মিরপুর-৬ এ অবস্থানরত তার বোন শান্তাকে আজমল হাসপাতালে খোঁজ নিতে বলেন। রাত ৮টার দিকে শান্তা নিশ্চিত করে যে তার ভাই শহীদ হয়েছে। সে সময় হাসপাতালের সামনে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের অবস্থানের কারণে লাশ আনা যাচ্ছিল না। অবশেষে রাত দেড়টার দিকে বোনের অনুরোধে এক অপরিচিত ব্যক্তি অ্যাম্বুলেন্সযোগে রাজনের লাশ কেরানীগঞ্জের বাড়িতে পৌঁছে দেন। রাজিব জানান, তিনি নিজেই লাশ কাঁধে করে অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামান এবং রাজনের বুকের ডান পাশে একটি বড় গুলির চিহ্ন দেখতে পান। গুলিটি বুকের সামনে দিয়ে ঢুকে পিঠ দিয়ে বেরিয়ে গিয়েছিল।

পরদিন ২০ জুলাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে রাজিব জানতে পারেন যে, মিরপুর যুবলীগের সভাপতি পরশ ও সাধারণ সম্পাদকের নির্দেশে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত