পাকিস্তানের নতুন টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর নিজের প্রথম ম্যাচটি দারুণভাবে স্মরণীয় করে রাখলেন সাহেবজাদা ফারহান। শুক্রবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ম্যাচে তার ৫২ বলের বিধ্বংসী ৮৯ রানের ওপর ভর করে ৪ উইকেটের জয় পেয়েছে পাকিস্তান। ফারহানের এই অনবদ্য ইনিংসের ওপর ভিত্তি করে সফরকারীদের বিপক্ষে ১-০ ব্যবধানে সিরিজে এগিয়ে গেল স্বাগতিকরা।
জয়ের জন্য ১৮৩ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিং করতে নেমে ফারহান পাকিস্তানকে জয়ী করতে নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করেন। ১৮.৫ ওভারে পাকিস্তান ৬ উইকেটে ১৮৭ রান তুলে ম্যাচটি নিশ্চিত করে। রান তাড়ায় ফারহান শুরু থেকেই অত্যন্ত আক্রমণাত্মক মেজাজে ব্যাটিং করেন। তার ইনিংসে ছিল ১০টি চার এবং ৪টি দৃষ্টিনন্দন ছক্কার মার। নিয়মিত বাউন্ডারি হাঁকিয়ে তিনি প্রতিপক্ষের বোলারদের ওপর প্রতিনিয়ত চাপ বজায় রাখেন। সাত বল বাকি থাকতেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় সফরকারী বোলারদের ব্যাকফুটে ঠেলে দেওয়া পাকিস্তান দল।
ফারহান ও সাদাকাতের কার্যকর জুটি
ফারহানের পাশাপাশি পাকিস্তানের এই জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন মাজ সাদাকাত। মিডল অর্ডারে নেমে তিনি মাত্র ২৯ বলে দ্রুতগতির ৫০ রান করেন। ফারহানের সঙ্গে ৯২ রানের কার্যকর জুটি গড়ে পাকিস্তান দলের জয়ের পথ অনেকটাই সহজ করে দেন এই তরুণ ব্যাটার। সাদাকাত নিজের ইনিংসে আক্রমণাত্মক মানসিকতা প্রদর্শন অব্যাহত রাখেন এবং নিয়মিত রান তুলে চাপ বজায় রাখেন।
এশান মালিঙ্গার মুখোমুখি হয়ে প্রথম চার বলেই দুটি ছক্কা ও একটি চারে রান তাড়ার গতি অনেক বাড়িয়ে দেন সাদাকাত। মাত্র ২৮ বলে টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের প্রথম অর্ধশতক করার মাইলফলকে পৌঁছান তিনি। তবে হাফসেঞ্চুরি করার ঠিক পরের বলেই মাহিশ তিকশানার বলে এলবিডব্লিউ হয়ে সাজঘরে ফেরেন সাদাকাত। ৩৬ রানে ২ উইকেট নেওয়া তিকশানা ওই মুহূর্তে শ্রীলঙ্কাকে গুরুত্বপূর্ণ ব্রেকথ্রু এনে দেন।
রান তাড়ার শুরু ও ধাক্কা সামলে ওঠা
এর আগে পাকিস্তানের ইনিংসের সূচনা করতে নেমে ফারহান ও ফখর জামান (২১) পাওয়ারপ্লেতে শ্রীলঙ্কান পেসারদের উইকেটে সেট হতে দেননি। এই ওপেনিং জুটি ৩১ বলে ৫৪ রান যোগ করে। দীর্ঘদেহের দ্রুতগতির বোলার দুশমন্থ চামিরা পাওয়ারপ্লেতে নিজের প্রথম দুই ওভারেই ৩২ রান খরচ করেন।
তবে লঙ্কান বোলাররা মাঝে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন। চামিরা তার ১০০তম টি-টোয়েন্টি উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন হাসান নওয়াজকে উইকেটের পেছনে ক্যাচ বানিয়ে। একই সময়ে তিকশানা নিচু হওয়া এক ডেলিভারিতে সাইম আইয়ুবকে ৮ রানে বোল্ড করেন। কিন্তু ফারহান এক ওভারে তিকশানাকে একটি ছক্কা ও তিনটি চার মেরে তা প্রতিহত করেন। জয় থেকে দল যখন মাত্র তিন রান দূরে, তখন সাহান আরাচচিগের দুর্দান্ত ক্যাচে ফারহান বিদায় নেন।
শ্রীলঙ্কার ইনিংস ও উದಾರার একক লড়াই
টসে হেরে প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে শ্রীলঙ্কা নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৮২ রানের লড়াকু পুঁজি সংগ্রহ করে। দলের হয়ে ওপেনার লাহিরু উদারা অসাধারণ ৯১ রানের একটি ইনিংস খেলেন। নিজের পঞ্চম টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলতে নেমে উদারা ৫৫ বলে ১১টি চার ও একটি ছক্কা হাঁকান এবং ইনিংসের ১৯তম ওভারে আউট হন।
ইনিংসে ব্যাটিংয়ের সময় উদারা পাকিস্তানের স্পিনারদের বিপক্ষে কামিন্দু মেন্ডিসকে (২৩) সাথে নিয়ে ৬০ রান যোগ করেন। এরপর দাসুন শানাকার (১৮) সাথে আরও ৫৭ রানের পার্টনারশিপ গড়েন। ৩২ বলে নিজের হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করা উদারা শ্রীলঙ্কাকে একটি ভালো জায়গায় পৌঁছে দেন। সফরকারীরা শেষ ৬ ওভারে স্কোরবোর্ডে ৬৬ রান যোগ করতে সমর্থ হয়।
পাকিস্তানের বোলিং ও নতুন পেস আক্রমণ
শাহীন আফ্রিদি ও মোহাম্মদ হারিসকে স্কোয়াডের বাইরে রেখে টি-টোয়েন্টি দলে আবার ডাকা হয় নাসিম শাহকে। নাসিম (৩-৩৬) প্রথম ওভারেই শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক কুশল মেন্ডিসকে মাত্র ১ রানে ফিরিয়ে দলকে অসাধারণ সূচনা এনে দেন। এছাড়া তরুণ পেসার মোহাম্মদ ইমরান নিজের অভিষেকেই নজর কাড়েন এবং ২১ রানে ২ উইকেট নেন। তিনি পাওয়ারপ্লেতে খাবি খাওয়া কামিল মিশারাকে ফখর জামানের ক্যাচে পরিণত করেন। ম্যাচে ফখর মোট তিনটি ক্যাচ নেন। পেস আক্রমণে আরেক অভিষিক্ত রাজাউল্লাহও বল হাতে অবদান রাখেন।
সিরিজের পরবর্তী ম্যাচের সময়সূচি
এই রোমাঞ্চকর জয়ের মাধ্যমে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল পাকিস্তান। সিরিজের বাকি দুটি ম্যাচ আগামী রবিবার ও মঙ্গলবার রাওয়ালপিন্ডিতে অনুষ্ঠিত হবে।

