ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টে তাওহীদ হৃদয়ের অপরাজিত ২৪২ রানের মহাকাব্যিক ইনিংসটি সবাইকে চমকে দিয়েছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্পিনার জোমেল ওয়ারিক্যান স্বীকার করেছেন যে, হৃদয়ের এমন অসাধারণ ব্যাটিং তাদের পুরোপুরি অবাক করে দিয়েছিল এবং তিনি এই ইনিংসটিকে ‘বিশেষ’ বলে অভিহিত করেছেন। বাংলাদেশ এক পর্যায়ে গভীর সংকটে পড়ার পর হৃদয় হাল ধরে দলকে স্বস্তিদায়ক অবস্থানে নিয়ে আসেন এবং প্রথম ইনিংসে লিড এনে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
মাত্র তৃতীয় টেস্ট খেলতে নামা হৃদয় বাংলাদেশের চতুর্থ ব্যাটার হিসেবে টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরির মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। এর আগে এই তালিকায় ছিলেন মুশফিকুর রহিম, তামিম ইকবাল এবং সাকিব আল হাসান। হৃদয়ের অপরাজিত ২৪২ রানের ইনিংসটি টেস্ট ক্রিকেটে যেকোনো বাংলাদেশি ব্যাটারের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহ। এর মাধ্যমে তিনি মুশফিকুর রহিমের করা আগের ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ২১৯ রানের রেকর্ডটি ভেঙে দিয়েছেন।
দিন শুরুর সময় ২৯ রান নিয়ে ক্রিজে আসা হৃদয় শেষ পর্যন্ত ৩৫৯ বলে ২৪২ রানে অপরাজিত থাকেন। তার ইনিংসটি ছিল ২২টি চার এবং ১১টি ছক্কায় সাজানো। টেস্টের এক ইনিংসে এটি কোনো বাংলাদেশি ব্যাটারের সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ড, যা তামিম ইকবালের সাত ছক্কার আগের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। দ্রুত তিন উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ যখন চাপে ছিল, তখন তাইজুল ইসলাম ও তাসকিন আহমেদকে সাথে নিয়ে হৃদয় দুর্দান্তভাবে দলের ইনিংস পুনর্গঠন করেন। তিনি তাইজুলের সাথে অষ্টম উইকেটে শত রানের জুটি গড়েন।
ওয়ারিক্যান ও সিমন্সের প্রতিক্রিয়া
- জোমেল ওয়ারিক্যান বলেন, “আমরা ম্যাচে সুবিধাজনক অবস্থানে ছিলাম এবং সবকিছু আমাদের পক্ষেই ছিল, কিন্তু হৃদয় দুর্দান্ত ব্যাটিং করেছে। তার ব্যাটিং ছিল স্পেশাল এবং আমাদের তাকে কৃতিত্ব দিতেই হবে।”
- ওয়ারিক্যান আরও বলেন, “আমরা ভাবছিলাম লিড কতটা বড় করা যায়, কিন্তু তার ব্যাটিং বিশেষ কিছু ছিল। সব দিক থেকেই এটি ছিল একটি অসাধারণ প্রচেষ্টা।”
- বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ ফিল সিমন্স হৃদয়ের প্রশংসা করে বলেন, “মুশফিকুর রহিম ও তাইজুল ইসলামের সাথে যেভাবে সে দায়িত্ব পালন করেছে, তা অসাধারণ। মাঠে ব্যাটাররাই সিদ্ধান্ত নেয়, সে তার মেধা দিয়ে পরিস্থিতি সামলে নিয়েছে।”
- সিমন্স আরও জানান, হৃদয়কে দলের প্রয়োজনে নিজের সুযোগ কাজে লাগানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, যা সে সফলভাবে পালন করেছে। এমনকি ডাবল সেঞ্চুরির কাছাকাছি পৌঁছে ক্লান্ত হওয়ার পরেও সে সীমানার বাইরে বল পাঠাতে সক্ষম হয়েছে।
- কোচের মতে, হৃদয় দ্রুত পরিণত হয়ে উঠছে এবং তার ব্যাটিং দক্ষতা দলের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক একটি দিক।
মুমিনুল হকের ইনজুরির কারণে সুযোগ পাওয়া হৃদয় এই টেস্টে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন। ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দলের হাল ধরা এবং শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়া তার ক্রিকেট বুদ্ধিমত্তার বহিঃপ্রকাশ। এই ইনিংসটি কেবল বাংলাদেশ ক্রিকেট ইতিহাসেই নয়, বিশ্ব ক্রিকেটেও দীর্ঘসময় আলোচিত থাকবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

