প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক জাপান সফরে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। সফরকালে সরকারি পর্যায়ে একটি চুক্তি ও চারটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) এবং বেসরকারি খাতে দুই দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৭টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর পাশাপাশি দুটি আলাদা অনুদান চুক্তিও সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) টোকিওতে বাংলাদেশ দূতাবাসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
সহযোগিতার ক্ষেত্র ও অনুদান
- জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় দুই দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কাজ করার অঙ্গীকার করেছে।
- বাংলাদেশের উপকূলীয় নিরাপত্তা সক্ষমতা জোরদারে একটি টহলজাহাজ সরবরাহের জন্য ২১২ কোটি জাপানি ইয়েন বা প্রায় ১ কোটি ৩৫ লাখ মার্কিন ডলারের অনুদান চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
- বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নে প্রায় ১০৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের ইয়েন ঋণ প্রকল্প এবং উপজেলা পর্যায়ে সুশাসন ও উন্নয়নে ১৩ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন ইয়েন বা প্রায় ১৯৪ দশমিক ৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তার প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানান, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করেছে এবং বিশ্ববাজারে নতুন বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে। বেসরকারি খাতে সই হওয়া ১৭টি সমঝোতা স্মারকের আওতায় আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে প্রায় ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই বিনিয়োগ বাস্তবায়ন হলে প্রায় দুই লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর অবকাঠামো উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন বিভাগে উড়াল এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ এবং ছয়টি বিভাগে রেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের প্রতিশ্রুতির বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমানের রুমন এবং উপ প্রেস সচিব শাহাদাত হোসেন স্বাধীন উপস্থিত ছিলেন।

