এএফসি চ্যাম্পিয়নস লিগে এস্তেঘলালকে হারিয়ে জয়ী শাবাব আল আহলি

এএফসি চ্যাম্পিয়নস লিগ এলিট ২০২৬/২৭ আসরের ওয়েস্ট জোনে নিজেদের সাফল্যের ধারা অব্যাহত রেখেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ক্লাব শাবাব আল আহলি। গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত ম্যাচে ইরানের ক্লাব এস্তেঘলালকে ২-০ গোলে হারিয়ে টানা তৃতীয় জয় নিশ্চিত করেছে দলটি। এই জয়ের মাধ্যমে আরেক ইউএই ক্লাব আল আইনের পাশাপাশি টুর্নামেন্টের ওয়েস্ট জোনে শতভাগ জয়ের রেকর্ড বজায় রাখা একমাত্র দল হিসেবে নিজেদের অবস্থান মজবুত করেছে তারা।

ইরানের এস্তেঘলালের বিরুদ্ধে ২-০ ব্যবধানের এই জয়টি খুব একটা সহজে আসেনি। প্রতিপক্ষের শক্ত প্রতিরোধের মুখে পড়ে ফুটবলাররা যেভাবে কঠিন পরীক্ষা পার করেছেন, তাতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন শাবাব আল আহলির প্রধান কোচ আন্দ্রে জারদিন। ম্যাচের কৌশলগত লড়াই নিয়ে কথা বলতে গিয়ে নিজের ফুটবলারদের ধৈর্য ও মানসিক পরিপক্কতার ব্যাপক প্রশংসা করেন তিনি।

প্রতিপক্ষের রক্ষণ ও ধৈর্য পরীক্ষা

ম্যাচ পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় প্রধান কোচ আন্দ্রে জারদিন বলেন, “আমি এস্তেঘলালের পারফরম্যান্সের প্রশংসা করছি এবং একই সাথে আমাদের খেলোয়াড়দের পরিপক্ক ও বুদ্ধিদীপ্ত পারফরম্যান্সের জন্য অভিনন্দন জানাচ্ছি। এই ম্যাচটি প্রচুর ধৈর্যের দাবি রেখেছিল, কারণ প্রতিপক্ষ দল রক্ষণে বিশাল সংখ্যক ফুটবলার মোতায়েন করে আমাদের আক্রমণ আটকে রাখার চেষ্টা করছিল, যা তাদের গোলমুখে পৌঁছানো কঠিন করে তোলে।”

জারদিন আরও বলেন, “আমরা অত্যন্ত ধৈর্যের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছি এবং খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ রাখতে সক্ষম হয়েছি। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, আমরা প্রতিপক্ষকে তেমন কোনো বড় সুযোগ তৈরি করতে দেইনি, যা আমাদের জয় পাওয়ার মূল চালিকাশক্তি ছিল।” প্রথম অর্ধে দুই দলের সমান লড়াই হলেও কোনো দলই কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায়নি।

বদলি খেলোয়াড় ও গোলের মুহূর্ত

ম্যাচের ধারার পরিবর্তন ঘটাতে প্রথমার্ধের খেলা শেষে ৬০ মিনিটের কাছাকাছি সময়ে একঝাঁক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনেন কোচ জারদিন। বদলি হিসেবে নামা খেলোয়াড়রাই ম্যাচের চিত্র বদলে দেন। তবে এর আগেই ৫১ মিনিটে সর্দার আজমুনের কাছ থেকে থ্রু বল পেয়ে বক্সে ঢুকে পড়েন ব্রেণো, কিন্তু এস্তেঘলালের গোলরক্ষক ফার আব্বাসি দুর্দান্ত দক্ষতায় সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেন।

ম্যাচের প্রথম সাফল্য আসে ৬৯তম মিনিটে। সর্দার আজমুন প্রতিপক্ষের রক্ষণকে পরাস্ত করে গভীর বক্সে চমৎকার পাস দেন সাবস্টিটিউট হিসেবে নামা ম্যাথিউস লিমাকে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে দারুণ ভলিতে বল জালে পাঠান লিমা এবং আব্বাসিকে পরাস্ত করেন। এরপর সমতায় ফিরতে মরিয়া এস্তেঘলাল আক্রমণাত্মক হতে গিয়ে নিজেদের রক্ষণভাগ উন্মুক্ত করে ফেলে।

  • ৬৯তম মিনিটে সর্দার আজমুনের পাস থেকে ভলিতে প্রথম গোলটি করেন বদলি খেলোয়াড় ম্যাথিউস লিমা।
  • ৮৩তম মিনিটে লিমার শুরু করা আক্রমণ থেকে আজমুনের চতুর পাস ধরে ৬-ইয়ার্ড বক্সের প্রান্ত থেকে গোল করেন হুয়ান আলভিনা।
  • এই জয়ে ৯ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের ওপরের দিকে উঠে এসেছে শাবাব আল আহলি।

দ্বিতীয় গোলটি নিয়ে বলতে গিয়ে কোচ জানান, ৮৩তম মিনিটে বাঁদিক থেকে লিমার শুরু করা মুভ ধরে আজমুন সুন্দরভাবে বল সাজিয়ে দেন আলভিনাকে, যিনি ঠাণ্ডা মাথায় গোলটি করেন। বদলি খেলোয়াড়দের এমন অসাধারণ অবদান সম্পর্কে জারদিন বলেন, “আমাদের বদলি সিদ্ধান্তগুলো আবারও দারুণ কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। বেঞ্চ থেকে এসে যেসব খেলোয়াড় দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন, আমি তাদের প্রশংসা করি। এই জয়টি টুর্নামেন্টে আমাদের লক্ষ্য অর্জনের কাছাকাছি নিয়ে গেছে এবং আগামী পর্বেও আমাদের এই কঠোর পরিশ্রম অব্যাহত রাখতে হবে।”

আল হিলালকে হারিয়ে আল শামালের চমক

একই দিনে টুর্নামেন্টের আরেকটি চাঞ্চল্যকর ম্যাচে সৌদি আরবের শক্তিশালী ক্লাব আল হিলালকে ৩-১ গোলে হারিয়ে নিজেদের প্রথম জয় তুলে নিয়েছে নবাগত আল শামাল। আল বায়াত স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে আল শামালের শৃঙ্খলা ও কৌশলগত প্রয়োগের ভূয়সী প্রশংসা করেন কোচ ডেভিড প্র্যাটস। প্রথম জয়ের পর কাতারি ক্লাবটি ৫ পয়েন্ট নিয়ে ওয়েস্ট জোনের ষষ্ঠ স্থানে উঠে এসেছে, যা আল হিলালের চেয়ে মাত্র এক পয়েন্ট কম।

আল শামালের কোচ ডেভিড প্র্যাটস বলেন, “দলের পারফরম্যান্সে আমি অত্যন্ত আনন্দিত, বিশেষ করে আল হিলালের মতো পরাশক্তিকে আমরা পরাজিত করেছি। আল হিলালের কিছু গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ের অনুপস্থিতি আমাকে কিছুটা অবাক করেছিল, তবে আমাদের মূল মনোযোগ ছিল নিজেদের পারফরম্যান্সে। কৌশলগত পরিকল্পনা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করাই আমাদের জয়ের মূল চাবিকাঠি ছিল।”

অন্যদিকে পরাজয় শেষে আল হিলালের প্রধান কোচ সিমোনে ইনজাগি খেলোয়াড়দের ক্লান্তি ও অবসাদকে দায়ী করেছেন। প্রথম অর্ধে আল হিলাল দুর্দান্ত খেললেও দ্বিতীয়ার্ধে খেলোয়াড়রা ক্লান্ত হয়ে পড়েন বলে তিনি উল্লেখ করেন। ইনজাগি বলেন, “এই হার সত্যিই বেদনাদায়ক, এটি দায়িত্ব নেওয়ার পর আমার তৃতীয় পরাজয়। প্রথম অর্ধে আমরা ভালো খেললেও দ্বিতীয় অর্ধে ক্লান্তির কারণে প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স ধরে রাখা সম্ভব হয়নি।”