মালয়েশিয়ার পেরাক রাজ্যের ইপোহ শহরে পৃথক দুটি অভিযানে ১০৯ জন অভিবাসীকে আটক করেছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ৭৫ জন পুরুষ এবং ৩৪ জন নারী রয়েছেন। এই পুরুষদের একটি অংশে বাংলাদেশি নাগরিকও রয়েছেন বলে জানা গেছে। শনিবার দিবাগত রাত থেকে শুরু হওয়া এই অভিযান রোববার ভোর পর্যন্ত স্থায়ী হয়। অভিযানে একটি বিনোদনকেন্দ্র, চারটি ম্যাসাজ পার্লার এবং ইপোহের পাইকারি বাজারে তল্লাশি চালানো হয়েছে।
অভিবাসন বিভাগের (জেআইএম) উপমহাপরিচালক (অপারেশন) দাতুক লোকমান এফেন্দি রামলি জানিয়েছেন, এই অভিযানে পেরাক রাজ্যের অভিবাসন বিভাগের কর্মকর্তা, পুত্রজায়ার বিশেষ গোয়েন্দা শাখা এবং পুলিশের ৬৬ জন সদস্য অংশ নেন। পাইকারি বাজারে অভিযান চালিয়ে মিয়ানমার, বাংলাদেশ, লাওস ও ইন্দোনেশিয়ার নাগরিকদের আটক করা হয়। অন্যদিকে, বিনোদনকেন্দ্র ও ম্যাসাজ পার্লার থেকে থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামের নাগরিকদের আটক করা হয়েছে। অভিযানকালে কয়েকজন বিদেশি পালানোর চেষ্টা করলেও কর্মকর্তাদের তৎপরতায় তাদের আটক করা সম্ভব হয়।
আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বৈধ ভ্রমণ নথি না থাকা, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়া এবং পারমিটের অপব্যবহারের মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব বিষয় মালয়েশিয়ার অভিবাসন আইন ১৯৫৯/৬৩ এবং অভিবাসন বিধিমালা ১৯৬৩-এর আওতাভুক্ত। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট পাঁচজন নিয়োগকর্তাকে সমন জারি করা হয়েছে এবং তাদের তদন্তে সহায়তার জন্য অভিবাসন কার্যালয়ে হাজির হতে বলা হয়েছে। বর্তমান আটক বিদেশিদের পেরাক রাজ্যের অভিবাসন কার্যালয়ে স্থানান্তর করা হয়েছে।
দেশটির অভিবাসন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত মালয়েশাজুড়ে ১১ হাজারের বেশি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এই সময়ে প্রায় দেড় লাখ বিদেশির পরিচয় ও কাগজপত্র যাচাই করা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে ৪৫ হাজারের বেশি বিদেশিকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। বাকিদের বিরুদ্ধে নিয়মিত আইনি কার্যক্রম চলমান রয়েছে, যা দেশটিতে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের প্রতিফলন। তিনি আরও জানান, প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পর ৪৫ হাজারের বেশি বিদেশিকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। চলমান অভিযান ও আটক-প্রত্যাবাসনের এই পরিসংখ্যান মালয়েশিয়ায় অবৈধভাবে অবস্থানরত বিদেশিদের বিরুদ্ধে দেশটির সরকারের ধারাবাহিক আইন প্রয়োগ কার্যক্রমের চিত্র তুলে ধরছে।

