নিউক্যাসলের কাছে হেরে টানা দ্বিতীয় হারের তিক্ত স্বাদ পেল টটেনহ্যাম

প্রিমিয়ার লিগের নতুন মৌসুমে বিশাল অংকের অর্থ ব্যয় করেও টটেনহ্যাম হটস্পারের শুরুটা হয়েছে চরম হতাশাজনক। রবার্তো ডি জার্বির শিষ্যরা নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে নিউক্যাসলের কাছে ২-০ গোলে পরাজিত হয়েছে। এর আগে মৌসুমের উদ্বোধনী ম্যাচে ব্রেন্টফোর্ডের কাছে ৩-০ গোলে হেরেছিল দলটি। ১৯৯২-৯৩ মৌসুমের পর এই প্রথম টটেনহ্যাম লিগের প্রথম দুই ম্যাচে কোনো গোল করতে ব্যর্থ হলো। ম্যাচের ৬২তম মিনিটে নিউক্যাসলের হয়ে গোলের সূচনা করেন অ্যান্থনি এলাঙ্গা। অমর দেদিচের হেড থেকে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে দারুণ এক টার্নে তিনি লক্ষ্যভেদ করেন। এরপর ৭২তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ইয়োয়ান উইসা। নিক ওলতেমেডের কর্নার থেকে আসা বল কাঁধের ওপর দিয়ে ফ্লিক করে জালে জড়িয়ে জয় নিশ্চিত করেন এই কঙ্গোলিজ ফরোয়ার্ড।

ম্যাচের বিশ্লেষণ ও টটেনহ্যামের ব্যর্থতা

  • নিউক্যাসলের নতুন কোচ ম্যাথিয়াস জাইসলে লিগে নিজের প্রথম জয় উদযাপন করলেন। লিভারপুলের বিপক্ষে ২-২ ড্রয়ের পর এটি ছিল এডি হাউয়ের স্থলাভিষিক্ত এই জার্মান কোচের প্রথম জয়।
  • টটেনহ্যাম গত মৌসুমে রেলিগেশন থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পাওয়ার পর এবার ৩০০ মিলিয়ন পাউন্ডের (৪০৬ মিলিয়ন ডলার) বেশি খরচ করে দল ঢেলে সাজিয়েছে।
  • নতুন রিক্রুট ওমর মারমুশ ম্যানচেস্টার সিটি থেকে ধারে যোগ দিয়ে অভিষেক করলেও গোল পেতে ব্যর্থ হয়েছেন।
  • ম্যাচের প্রথমার্ধে টটেনহ্যাম আধিপত্য বিস্তার করলেও গোল করতে পারেনি। ম্যাথিস টেলের শট নিউক্যাসলের গোলরক্ষক লুকাস হর্নিচেক আটকে দেন।
  • সান্ড্রো টোনালি তার প্রাক্তন ক্লাবের বিপক্ষে খেলতে নেমে নিউক্যাসলের সমর্থকদের দুয়োর মুখে পড়েন। প্রথমার্ধের শেষ দিকে তিনি গোল করার সহজ সুযোগ নষ্ট করেন।
  • ম্যাচের ৬২তম মিনিটে এলাঙ্গার গোলের পর টটেনহ্যামের রক্ষণভাগ ভেঙে পড়ে। হতাশ সমর্থকরা শেষ বাঁশি বাজার অনেক আগেই মাঠ ছাড়তে শুরু করেন।
  • ম্যাচের ৭২তম মিনিটে উইসার গোল টটেনহ্যামের ঘুরে দাঁড়ানোর সব আশা শেষ করে দেয়।
  • ম্যাচের শেষদিকে টোনালিকে মাঠ থেকে তুলে নেওয়ার সময় নিউক্যাসলের সমর্থকরা তাকে দুয়ো দিতে থাকেন, যা টটেনহ্যামের জন্য একটি হতাশাজনক বিকেলের সমাপ্তি টেনেছে।

টটেনহ্যামের এই পরাজয় তাদের জন্য বড় ধাক্কা, কারণ লিগ কাপে চার্লটনের বিপক্ষে ৫-১ গোলের জয়টি ছিল কেবল একটি সাময়িক স্বস্তি। ডি জার্বির দল এখন লিগের পয়েন্ট টেবিলে বেশ চাপে রয়েছে। অন্যদিকে, নিউক্যাসল তাদের নতুন কোচের অধীনে একটি শক্তিশালী পারফরম্যান্স উপহার দিয়ে লিগে নিজেদের অবস্থান মজবুত করেছে। টটেনহ্যামের গোল করতে না পারার এই ব্যর্থতা তাদের আক্রমণভাগের কার্যকারিতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। বিশেষ করে সাভিও ইনজুরির কারণে দলের বাইরে থাকায় আক্রমণভাগে সৃজনশীলতার অভাব স্পষ্ট ছিল। মারমুশ এবং অন্যান্য নতুন খেলোয়াড়রা এখনো দলের সাথে মানিয়ে নিতে সংগ্রাম করছেন। আগামী ম্যাচগুলোতে ঘুরে দাঁড়াতে না পারলে টটেনহ্যামের জন্য মৌসুমটি আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। অন্যদিকে, নিউক্যাসল তাদের এই জয়ের ধারা বজায় রাখতে মরিয়া হয়ে থাকবে। ম্যাচের প্রথমার্ধে হর্নিচেকের দুর্দান্ত সেভগুলো নিউক্যাসলকে ম্যাচে টিকিয়ে রেখেছিল, যা শেষ পর্যন্ত তাদের জয়ের পথ প্রশস্ত করে। টটেনহ্যামের সমর্থকরা এখন তাদের দলের কাছ থেকে আরও ভালো পারফরম্যান্সের অপেক্ষায় আছেন, কারণ এই বাজে শুরু তাদের জন্য দীর্ঘমেয়াদী উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ডি জার্বিকে দ্রুতই দলের ভুলগুলো সংশোধন করতে হবে, অন্যথায় প্রিমিয়ার লিগের এই কঠিন প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা তাদের জন্য অসম্ভব হয়ে পড়বে।