বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাবেক উপাচার্য নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহর জামিননামা আদালতে দাখিল করা হয়েছে। এক লাখ টাকা মুচলেকা এবং পাসপোর্ট জমা দেওয়ার শর্ত পূরণ করায় তাঁর কারামুক্তিতে আর কোনো আইনি বাধা নেই বলে জানিয়েছেন তাঁর আইনজীবীরা।
সোমবার ঢাকার মহানগর দায়রা জজ শাহজাহান কবিরের আদালতে শুনানি শেষে জামিননামা দাখিলের অনুমতি দেওয়া হয়। কলিমউল্লাহর আইনজীবী মহসিন রেজা জানান, গত ১৪ জুন উচ্চ আদালত তাঁকে জামিন প্রদান করেছিলেন। সেই আদেশের শর্ত অনুযায়ী জামিননামা দাখিল করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে অন্য কোনো মামলা না থাকায় কারামুক্তিতে আর কোনো আইনি জটিলতা নেই।
এদিন মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল ও আসামির হাজিরার দিন ধার্য থাকায় কলিমউল্লাহকে কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়। শুনানি শেষে তাঁকে পুনরায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আদালত আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পরবর্তী দিন ধার্য করেছেন।
উল্লেখ্য, গত বছরের ৭ আগস্ট মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ কলিমউল্লাহকে গ্রেপ্তার করে। এরপর থেকেই তিনি কারাগারে রয়েছেন। এর আগে ১৮ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে কলিমউল্লাহসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এ কে এম নূর-উন-নবী, সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর আলম এবং ঠিকাদার মো. আ. সালাম বাচ্চু ও এম এম হাবিবুর রহমান।
মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, আসামিরা ক্ষমতার অপব্যবহার ও যোগসাজশের মাধ্যমে প্রকল্পের নকশা পরিবর্তন এবং সরকারি অনুমোদন ছাড়াই ৩০ কোটি টাকার বেশি মূল্যের চুক্তি করেছিলেন। এছাড়া নিরাপত্তা জামানতের এফডিআরের বিপরীতে ঋণ দিতে গ্যারান্টার হয়ে সরকারের চার কোটি টাকা আত্মসাৎ, বিধিবহির্ভূতভাবে দ্বিতীয় পরামর্শক নিয়োগ এবং সরকারি ক্রয়বিধি (পিপিআর-২০০৮) লঙ্ঘন করে ঠিকাদারকে অগ্রিম বিল দেওয়ার মতো গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে।

