লাহোরে দিলশান মাদুশঙ্কার ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ে স্বাগতিক পাকিস্তানকে গুঁড়িয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে পৌঁছে গেছে শ্রীলঙ্কা। বাঁহাতি এই পেসারের ৩৪ রানে ৫ উইকেটের তোপে পড়ে ২৫.৩ ওভারে মাত্র ১১০ রানেই অলআউট হয়ে যায় পাকিস্তান। জবাবে কামিন্দু মেন্ডিসের দ্রুতগতির অর্ধশতকে ভর করে ১৮.১ ওভারেই ৮ উইকেটের সহজ জয় তুলে নেয় শ্রীলঙ্কানরা। এই ফলাফলের ফলে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেছে ইংল্যান্ডের। ফাইনাল ম্যাচে আবারো মুখোমুখি হবে শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তান।
ম্যাচে টস জিতে কোনো দ্বিধা ছাড়াই পাকিস্তানকে আগে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানায় অপরিবর্তিত একাদশ নিয়ে নামা শ্রীলঙ্কা। স্কোয়াড থেকে সাইম আইয়ুবকে ছেড়ে দেওয়ায় পাকিস্তান একাদশে পরিবর্তন আনে; তার জায়গায় সুযোগ পান মাাজ সাদাকাত এবং রাজাউল্লাহর পরিবর্তে ফেরেন নাসিম শাহ। পাকিস্তান ইনিংসে ফখর জামান ও সাদাকাত বাউন্ডারি দিয়ে শুরু করলেও শ্রীলঙ্কা দ্রুতই আঘাত হানে। মাদুশঙ্কার একটি শর্ট বলে আউট হন ফখর। এরপর বাবর আজম ইতিবাচক শট খেললেও অন্য প্রান্তে সাদাকাতকে লেগ-বিফোর-উইকেটের ফাঁদে ফেলেন অসিথা ফার্নান্দো।
ব্যাট হাতে বাবর আজম বাউন্ডারি পেলেও প্রথম স্পেল শেষ করার আগে নিজের দ্বিতীয় উইকেট তুলে নিয়ে স্বাগতিকদের চাপে রাখেন মাদুশঙ্কা। ১৪ ওভারের মধ্যে ৬১ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ে পড়ে পাকিস্তান। সেখান থেকে ইংল্যান্ড ম্যাচের মতো আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি স্বাগতিকরা। ফর্মে থাকা শাদাব খান সাহান আরাচ্চিগেকে সুইপ করতে গিয়ে টপ এজ হয়ে মাত্র ২ রানে আউট হন। পরবর্তীতে নিজের দ্বিতীয় স্পেলে ফিরে আরাফাত মিনহাসকে শর্ট বলে ফেরান মাদুশঙ্কা। এরপর হাসান নওয়াজ লং অফের কাছে ক্যাচ দিয়ে নিজের উইকেট উপহার দেন। শেষ দিকে হারিস রউফ ও শাহীন আফ্রিদিকে আউট করে পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন মাদুশঙ্কা, ফলে অর্ধেকেরও বেশি ওভার বাকি থাকতেই গুটিয়ে যায় পাকিস্তান।
১১১ রানের ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে প্রথম ওভারেই জীবন পান কামিন্দু মেন্ডিস। সুযোগ কাজে লাগিয়ে পরের ওভারেই বাউন্ডারি হাঁকান তিনি। আভিষ্কা ফার্নান্দো ও কামিন্দুর ব্যাটে দ্রুত রান তুলতে থাকে শ্রীলঙ্কা। হারিস রউফ নিজের প্রথম ওভারে বোলিংয়ে এলে তাকে টানা তিনটি বাউন্ডারি মারেন কামিন্দু। ফলে মাত্র ৬.১ ওভারেই শ্রীলঙ্কার দলীয় রান ৫০ পার হয়।
দলীয় সংগ্রহের পর দ্রুত ব্যবধানে আভিষ্কা ফার্নান্দো ও কুশল মেন্ডিসকে ফিরিয়ে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করে পাকিস্তান। তবে শ্রীলঙ্কার জয়ের জন্য তখন প্রয়োজন ছিল ৫০ রানেরও কম। ডিপ ব্যাকওয়ার্ড স্কয়ার লেগে ক্যাচ দিয়েও সীমানা দড়িতে ফিল্ডারের পা লেগে যাওয়ায় ছয় রান পান কামিন্দু, যা দিয়ে পূর্ণ হয় তার ফিফটি। পানি পানের বিরতির পরপরই জয় নিশ্চিত করে লঙ্কানরা। পুরো ম্যাচটিতে মোট ৪৪ ওভারের কম খেলা হয়েছে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর: পাকিস্তান ২৫.৩ ওভারে ১১০/১০ (বাবর আজম ২৯; দিলশান মাদুশঙ্কা ৫/৩৪, সাহান আরাচ্চিগে ২/২৪)। শ্রীলঙ্কা ১৮.১ ওভারে ১১৪/২ (কামিন্দু মেন্ডিস ৬২*, পাবন রথনাযাকে ২৩*; আরাফাত মিনহাস ১/২৩)। ফলাফল: শ্রীলঙ্কা ৮ উইকেটে জয়ী।

