মামলা নিয়ে ক্ষুব্ধ তানজিন তিশা, প্রশ্ন তুললেন সামাজিক সম্মানহানি নিয়ে

ফ্যাশন ডিজাইনার সানায়া চৌধুরীর দায়ের করা প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ এবং হুমকির মামলা নিয়ে চলমান বিতর্কের মুখে অবশেষে সরব হয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী তানজিন তিশা। গত সোমবার দিবাগত রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্টের মাধ্যমে তিনি নিজের তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা ব্যক্ত করেছেন। দীর্ঘ পোস্টে তিনি নিজেকে হেয় প্রতিপন্ন করার গভীর ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছেন।

ফেসবুক বার্তায় তানজিন তিশা প্রশ্ন রাখেন, ‘এত বড় পরিকল্পনা কেন? কোনো মানুষের বছরের পর বছর অর্জিত সম্মান ও ক্যারিয়ার ধ্বংস করার পেছনে কারা রয়েছে?’ তিনি আরও বলেন, একটি বক্তব্যের অডিও রেকর্ড থেকে নিজেদের সুবিধামতো অংশ কেটে নিয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন গল্প সাজানো হয়েছে। এ ধরনের কার্যক্রমের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে সম্মানহানি করার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এছাড়া অডিও বা বক্তব্য প্রকাশের বিষয়টি নিয়ে তিনি বলেন, এমন কাউকে তিনি আগে দেখেননি বা চেনেননি। একজনের নাম একের পর এক অভিযোগ ছড়িয়ে সামাজিক মাধ্যমে সম্মানহানি করা হয়। একজন মানুষের এত বছরের সম্মান, ক্যারিয়ার আর অর্জন ধ্বংস করে দেওয়ার এমন বিশাল ঘৃণ্য প্রচেষ্টা। এই দুই বোনের মিলিত হয়ে এত ঘৃণা কেন। একজন মানুষকে ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে ছড়িয়ে দেওয়া মিথ্যা ও বানোয়াট গল্পগুলো কি শেষ পর্যন্ত প্রচার পাবে।

নিজের কাছে পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ থাকার কথা উল্লেখ করে অভিনেত্রী লেখেন, অনেক প্রশ্নের উত্তর ও প্রমাণ তার কাছে রয়েছে। কিন্তু প্রকৃত সত্য বিচার করবে কে—আদালত নাকি সাংবাদিকতা? মিথ্যা ও বানোয়াট গল্প ছড়িয়ে কি কাউকে ধ্বংস করে ফেলা সম্ভব? মামলা বা অভিযোগ করলেই তা সত্য হয়ে যায় কি না, এমন প্রশ্নও তিনি ছুড়ে দিয়েছেন জনসাধারণের উদ্দেশ্যে। বিচার প্রক্রিয়া ও সামাজিক বাস্তবতায় তিনি গভীর হতাশা প্রকাশ করেন। অভিযোগ করলে সত্য হয়ে যায়।

উল্লেখ্য, গত রোববার ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এই মামলাটির অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন বা পিবিআইয়ের দেওয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে বাদীপক্ষের নারাজি আবেদন মঞ্জুর করে আদালত এ আদেশ দেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী শুভ্র সিনহা রনি জানিয়েছেন, মামলার নতুন তদন্তকারী সংস্থা হিসেবে সিআইডিকে আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।