নারী ক্রিকেটারদের যৌন হয়রানির অভিযোগ মোকাবিলা এবং তাদের জন্য একটি নিরাপদ ও সম্মানজনক পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) একটি স্বতন্ত্র অভিযোগ কমিটি গঠন করেছে। ২০০৯ সালের হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর আগে জানিয়েছিল যে, সব সদস্য চূড়ান্ত না হওয়ায় এই কমিটির অনুমোদন প্রক্রিয়ায় বিলম্ব হচ্ছিল। তবে বিসিবির অভিযোগ কমিটির সচিব চন্দ্রা ব্যানার্জি মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) নিশ্চিত করেছেন যে, তারা বর্তমানে চারজন সদস্য নিয়ে কাজ শুরু করেছেন এবং পঞ্চম সদস্যকে খুব শিগগিরই অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
কমিটির গঠন ও কার্যপরিধি
- কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম। তিনি বিসিবির গত নির্বাচনের আগে নারী উইংয়ের দায়িত্ব পালন করা তমিম ইকবাল নেতৃত্বাধীন কনভিনিং কমিটিরও সদস্য ছিলেন।
- কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন ব্যারিস্টার নাজিয়া কবির, ব্যারিস্টার অনিতা গাজী রহমান এবং জারিন মাহমুদ হোসেন। পঞ্চম সদস্য হিসেবে একজন সাবেক ক্রিকেটারকে যোগ দেওয়া হবে।
- বিসিবি কর্তৃপক্ষ ইচ্ছাকৃতভাবেই কমিটির বাইরে বিসিবির কোনো নিজস্ব কর্মকর্তাদের রাখেনি, যাতে অভ্যন্তরীণ প্রভাবমুক্ত থেকে তদন্ত কাজ নিরপেক্ষভাবে পরিচালিত হয়।
বিসিবির অভিযোগ কমিটির সচিব চন্দ্রা ব্যানার্জি জানিয়েছেন যে, এই সুরক্ষা নীতি আন্তর্জাতিক নিয়ম এবং দেশের প্রচলিত আইনের সাথে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি করা হয়েছে। তিনি বলেন, “সুরক্ষা নীতিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা আছে কোন ধরনের আচরণ অগ্রহণযোগ্য। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে খেলোয়াড়রা কীভাবে আমাদের কাছে অভিযোগ জানাতে পারবেন এবং আমরা কীভাবে গোপনীয়তা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখব, তা এই নীতির মূল বিষয়।” বিসিবি এ বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে এবং ওয়েবসাইটের পপ-আপ ব্যানারের মাধ্যমে অভিযোগ জানানোর প্রক্রিয়াটি সহজ করা হয়েছে।
চন্দ্রা ব্যানার্জি আরও বলেন, “আমি তাদের মনের ভয় দূর করতে চাই। আমি তাদের নিশ্চিত করতে চাই যে, কোনো খেলোয়াড় অভিযোগ করলে তা কীভাবে গোপন রাখা হবে এবং আমরা কীভাবে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করব। কারণ এটি তাদের অধিকার—একটি নিরাপদ, সুস্থ ও সম্মানজনক পরিবেশ পাওয়া।” খেলোয়াড়দের সাথে কমিটির সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের জন্য বিসিবি শীঘ্রই একটি কর্মশালার আয়োজন করবে। বর্তমানে কক্সবাজারে চলমান ঘরোয়া টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া প্রায় একশ জন নারী ক্রিকেটারের জন্য ইতোমধ্যে সচেতনতামূলক ক্লাসের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও পুরো বিষয়টি প্রচারের জন্য আরও অনেক কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে যা খুব দ্রুতই সবার নজরে আসবে বলে জানিয়েছেন বিসিবির কর্মকর্তারা।

