রবি বোলার হান্ট: ১৪৩ প্রতিভার খোঁজে নতুন দিগন্ত

বাংলাদেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে আয়োজিত ‘রবি বোলার হান্ট’ কার্যক্রমের জমকালো সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান আজ মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচির মাধ্যমে দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা উদীয়মান বোলারদের খুঁজে বের করে তাদের বিকাশে সহায়তা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

চলতি বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর যাত্রা শুরু করা এই আয়োজনে ২৫ হাজারেরও বেশি আগ্রহী তরুণ নিবন্ধিত হয়েছিলেন। দেশের ৯টি ভেন্যুতে ধারাবাহিক ট্রায়ালের পর ১৪৩ জন সম্ভাবনাময় বোলারকে বাছাই করা হয়। চূড়ান্ত তালিকায় স্থান পাওয়া এই বোলারদের মধ্যে ৫৭ জন পেসার ও ৮৬ জন স্পিনার রয়েছেন। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ১০৮ জন পুরুষ এবং ৩৫ জন নারী বোলার ছিলেন। গত ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রবি বোলার হান্টের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুল সংখ্যক প্রতিভার অংশগ্রহণ এবং সেখান থেকে প্রতিশ্রুতিশীল বোলারকে বাছাই করার মধ্য দিয়ে দেশের ক্রিকেটে নতুন প্রতিভা তুলে আনার এই উদ্যোগের ব্যাপকতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রচেষ্টা প্রতিফলিত হয়েছে।

বাছাই প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত ধাপ ছিল অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক। নির্বাচিত প্রতিযোগীরা ১ নভেম্বর ঢাকায় জাতীয় পর্যায়ের বাছাই পর্বে অংশ নেন। সেখানে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণের পর দক্ষতা ও পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে ৪২ জনকে সংক্ষিপ্ত তালিকায় রাখা হয়। পরদিন ২ নভেম্বর অভিজ্ঞ কোচ ও ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের নিবিড় মূল্যায়নের মাধ্যমে ২১ জন বিজয়ী ও বিশেষ পুরস্কারপ্রাপ্ত ২ জনসহ মোট ২৩ জন প্রতিশ্রুতিশীল বোলারকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয়।

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল খান, সিইও নিজাম উদ্দিন চৌধুরী, রবি আজিয়াটা পিএলসি’র হেড অব মার্কেটিং শওকত কাদের চৌধুরী, চিফ কর্পোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার সাহেদ আলমসহ উভয় প্রতিষ্ঠানের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল খান বলেন, দেশের ক্রিকেটের ধারাবাহিক সাফল্যের জন্য নতুন প্রতিভা খুঁজে বের করা ও তাদের সঠিক পরিচর্যা জরুরি। রবি বোলার হান্টের মতো উদ্যোগগুলো তরুণদের নিজেদের প্রতিভা প্রদর্শনের চমৎকার মঞ্চ তৈরি করে দেয়। ক্রিকেটের উন্নয়নে রবির এই সম্পৃক্ততা প্রশংসনীয়। আশা করি, এই অভিজ্ঞতা তরুণদের শৃঙ্খলা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে লক্ষ্যে পৌঁছাতে উৎসাহিত করবে।

রবি আজিয়াটা পিএলসি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াদ সাতারা বলেন, তরুণদের জন্য অর্থবহ সুযোগ তৈরি করাই আমাদের লক্ষ্য। আমরা বিশ্বাস করি, প্রতিভা যেকোনো স্থান থেকে উঠে আসতে পারে। এই অংশীদারত্বের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে অবদান রাখা এবং ভবিষ্যতের তারকাদের অনুপ্রাণিত করতে পেরে রবি গর্বিত। শওকত কাদের চৌধুরী যোগ করেন, সম্ভাবনাময় বোলারদের সুযোগ করে দেওয়ার মাধ্যমেই আমরা পরবর্তী প্রজন্মের ক্রিকেটারদের স্বপ্নপূরণে সহায়তা করছি।

২৭ সেপ্টেম্বর সিলেট থেকে শুরু হওয়া এই কার্যক্রম দেশের খুলনা, রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম এবং ঢাকার দুটি স্থানসহ মোট আটটি ভেন্যুতে সম্পন্ন হয়েছে। খুলনার ভেন্যুতে বরিশালের অংশগ্রহণকারীরাও ট্রায়ালের সুযোগ পেয়েছিলেন। উল্লেখ্য, এর আগেও বিসিবির সঙ্গে রবির যৌথ উদ্যোগে পেস ও স্পিন বোলিং হান্ট অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যেখান থেকে এবাদত হোসেন ও রিশাদ হোসেনের মতো ক্রিকেটাররা জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন।