সৌদিতে থাকার নাটক: সাভার থেকে গ্রেপ্তার পলাতক প্রতারক

রাজশাহীর বাগমারা থানার পুলিশ রোববার দুপুরে ঢাকার সাভারের রাজাসন এলাকা থেকে ওয়াজকুরুনি (৫৫) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে। তিনি বাগমারার কাচারী কোয়ালীপাড়া ইউনিয়নের মোহনপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় মানসিংহপুর মোহনপুর নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক অফিস সহকারী। চেক জালিয়াতির চারটি মামলায় মোট তিন বছর চার মাসের সাজা হওয়ার পর তিনি দীর্ঘ ছয় বছর ধরে পলাতক ছিলেন। তিনি সেখানে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওয়াজকুরুনি বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সুদে টাকা ধার নিয়ে বিনিময়ে চেক দিতেন। কিন্তু ব্যাংক হিসাবে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় চেকগুলো প্রত্যাখ্যাত হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা তাঁর বিরুদ্ধে জালিয়াতির মামলা করলে আদালত তাঁকে সাজা প্রদান করেন। আদালতের রায়ের পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে চলে যান এবং তিন বছর আগে গোপনে বিদ্যালয়ে এসে চাকরি থেকে ইস্তফা দেন।

আসামিকে ধরার জন্য বাগমারা থানা-পুলিশ একাধিকবার তাঁর বাড়িতে অভিযান চালালেও পরিবারের সদস্যরা দাবি করেন, তিনি সৌদি আরবে চলে গেছেন। এই তথ্য পুলিশকেও জানানো হয়েছিল। এমনকি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মজিবুর রহমানও ওয়াজকুরুনি দেশের বাইরে আছেন বলে জানতেন। তবে বাগমারা থানা-পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তারে তৎপর ছিল এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নিশ্চিত হয় যে তিনি দেশেই অবস্থান করছেন। কিছু দিন আগে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে তাঁর অবস্থান দেশে বলে জানতে পারে পুলিশ।

অবশেষে এসআই শিহাব উদ্দিনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ সাভারের একটি পোশাক কারখানায় শ্রমিকের ছদ্মবেশে কাজ করা অবস্থায় তাঁকে গ্রেপ্তার করে। বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল ইসলাম জানান, আগামীকাল সোমবার তাঁকে আদালতে সোপর্দ করা হবে। দীর্ঘ ছয় বছর পলাতক থাকার পর অবশেষে আইনের আওতায় এলেন সাজাপ্রাপ্ত এই প্রতারক।