১০ গোলের হারের পর কোচ বাটলারের বিস্ফোরক মন্তব্য

উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে ১০-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে হেরে বড় ধাক্কা দিয়ে এশিয়া গেমস মিশন শুরু করেছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। এই হারের পর কোচ পিটার বাটলার স্পষ্টভাবেই দলের কঠিন বাস্তবতার কথা তুলে ধরেছেন। তার মতে, উত্তর কোরিয়ার মতো শক্তিশালী ও গতিময় প্রতিপক্ষের বিপক্ষে লড়াই করার মতো সক্ষমতা বর্তমানে বাংলাদেশের মেয়েদের নেই। দলের এমন চরম ব্যর্থতার সমস্ত দায় নিজের কাঁধে নিয়ে কোচ বলেন, তিনি কোনো জাদুকর নন যে হুট করে সব বদলে দেবেন। হাফ-টাইমের বিপর্যয় নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে তিনি মনে করিয়ে দেন, টুপি থেকে খরগোশ বের করার মতো কোনো জাদু তার জানা নেই। তিনি একজন পেশাদার ফুটবল কোচ হিসেবে ইংল্যান্ডে ৫০০-র বেশি ম্যাচ খেলেছেন এবং বেশ কয়েকটি দেশের নারী ও পুরুষ জাতীয় দলের দায়িত্ব সামলেছেন।

দলের শোচনীয় পরাজয়ের পেছনে মাঠের বাইরের কিছু বিতর্কিত বিষয় ও অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে দায়ী করেছেন এই ইংলিশ কোচ। তিনি জানান, বাংলাদেশ দলের ভেতরে এখন স্পষ্ট দুটি ভাগ তৈরি হয়েছে; যার একটি প্রবীণ বা অভিজ্ঞদের এবং অপরটি তরুণ খেলোয়াড়দের। এই বিভাজনকে ঘিরে নানা সমস্যা তৈরি হচ্ছে। মাঠের বাইরের পরিস্থিতির ওপর তার কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই উল্লেখ করে বাটলার অভিযোগ করেন, কিছু মানুষ মধ্যরাতে খেলোয়াড়দের ফোন দিচ্ছেন এবং কনফারেন্স কল করছেন। নাম উল্লেখ না করে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এভাবে ফোনে অযাচিত হস্তক্ষেপের মাধ্যমে কখনো একটি পেশাদার দল গড়ে তোলা সম্ভব নয়।

বাটলারের দাবি, তরুণদের সুযোগ দেওয়ার প্রক্রিয়াটি হয়তো বাফুফের নারী উইংয়ের প্রধানসহ অনেক কর্মকর্তা পছন্দ করছেন না। তবে নানা বাধার মধ্যেও বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি মেয়েদের পাশে আছেন এবং তাকে পূর্ণ সমর্থন দিচ্ছেন। দলের বর্তমান বহরে মাত্র ১৫ বছর বয়সী খেলোয়াড়ও রয়েছে উল্লেখ করে কোচ জানান, এখানে কোনো শক্তিশালী ঘরোয়া লিগ নেই, যা দল গঠনে বড় বাধা। তা সত্ত্বেও তিনি কোনো অজুহাত দিতে চান না এবং আজকের ম্যাচের ফলাফলের পুরো দায় তার নিজের।

কোচ আরও মনে করেন, প্রথমার্ধেই সাত গোল হজমের পর দ্বিতীয়ার্ধে মেয়েরা কিছুটা ভালো খেলার চেষ্টা করেছে। এই ম্যাচে তারা কয়টি গোল খেলো, সেটি এখন আর বড় বিষয় নয়। সামনে তাদের মূল লক্ষ্য মিয়ানমারের বিপক্ষে ম্যাচটি। অবশ্য এরপর দক্ষিণ কোরিয়া ম্যাচটিও প্রায় একই রকম কঠিন হতে পারে বলে তিনি আগে থেকেই সতর্ক করেছেন। দলের বিরুদ্ধে বাইরে থেকে তৈরি করা বিরূপ পরিস্থিতির কথা তিনি ভালোভাবেই বোঝেন জানিয়ে বলেন, ‘আমি বোকা নই; আমি জানি, কখন পরিস্থিতি আমার বিপক্ষে ব্যবহার করা হচ্ছে।’

বাফুফে সভাপতির ধারাবাহিক সমর্থনের ওপর ভরসা রেখে পিটার বাটলার ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। দলের অভ্যন্তরীণ সমস্যা কাটিয়ে উঠে পরবর্তী ম্যাচগুলোতে মেয়েরা ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে মাঠে নামবে বলেই আশা করছেন এই অভিজ্ঞ কোচ। তবে তার এই বিস্ফোরক মন্তব্য দেশের নারী ফুটবল অঙ্গনের ভেতরের অস্থিরতাকে আরও একবার প্রকাশ্যে নিয়ে এলো। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ইংল্যান্ডের হয়ে ৫শ’র বেশি ম্যাচ খেলেছি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দলের ভেতরের অস্থিরতা নিয়ে বাটলার বলেন, ‘আমাদের দলে দু’টি আলাদা গ্রুপ আছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে আমি সততার সঙ্গেই বলতে পারি, সভাপতি সহযোগিতা করছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পুরো ম্যাচ যে গতিতে খেলল পরাশক্তি দলটি, এমন গতিময় ফুটবলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে খেলতে অভ্যস্ত নয় বাংলাদেশের মেয়েরা।