উপজেলা হাসপাতালে শয্যা বৃদ্ধি ও আইসিইউ সুবিধা
দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও জনমুখী করার লক্ষ্যে সরকার একটি বৃহৎ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে, সারাদেশের ৪৯২টি ৫০ শয্যার উপজেলা হাসপাতালকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করা হবে। একই সাথে, এসব হাসপাতালে বিশেষায়িত আইসিইউ (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) সুবিধা চালু করারও পরিকল্পনা রয়েছে। বুধবার (৩ জুন) সকালে এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মন্ত্রী জানান, উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে, বিদ্যমান অনেক হাসপাতালের অবকাঠামো এবং শয্যাসংখ্যা এই ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে যথেষ্ট নয়। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার সারাদেশে উপজেলা হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। গণপূর্ত অধিদপ্তর প্রয়োজনীয় প্রাথমিক কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। এই পরিকল্পনার আওতায় হাসপাতালগুলোর ভবন সম্প্রসারণ, নতুন ওয়ার্ড নির্মাণ, অত্যাধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সংযোজন এবং প্রয়োজনীয় জনবল বৃদ্ধির বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
আইসিইউ সুবিধার সুফল
সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, উপজেলা হাসপাতালগুলোতে আইসিইউ সুবিধা চালু হলে গুরুতর অসুস্থ রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলা সদর বা রাজধানী ঢাকার দিকে ছুটতে হবে না। এর ফলে রোগীরা তাদের নিজ নিজ এলাকায় উন্নত চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করতে পারবেন এবং একই সাথে বড় হাসপাতালগুলোর ওপর বিদ্যমান চাপও হ্রাস পাবে।
নারী ও শিশু স্বাস্থ্যসেবায় নতুন উদ্যোগ
এছাড়াও, নারী ও শিশু স্বাস্থ্যসেবাকে আরও সুদৃঢ় করতে সরকার দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নারীদের জন্য পাঁচটি এবং শিশুদের জন্য পাঁচটি বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা করেছে। এই হাসপাতালগুলোতে মাতৃস্বাস্থ্য, নবজাতকের পরিচর্যা, শিশুদের জটিল রোগের চিকিৎসা এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হবে।
সরকারের এই পদক্ষেপকে দেশের স্বাস্থ্য খাতের অন্যতম বৃহত্তম সম্প্রসারণমূলক কর্মসূচি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, উপজেলা পর্যায়ে হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা বৃদ্ধি এবং আইসিইউ সুবিধা চালু হওয়ার ফলে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন। এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবার বিকেন্দ্রীকরণ আরও শক্তিশালী হবে এবং রাজধানীকেন্দ্রিক চিকিৎসা নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।
