মেক্সিকো-গুয়াতেমালা সীমান্তে ৭.৩ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প

মেক্সিকোর দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে, গুয়াতেমালা সীমান্তের কাছে শুক্রবার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস (USGS) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৭.৩। এর কেন্দ্রস্থল ছিল মেক্সিকোর চিয়াপাস উপকূলের কাছে আকিলেস সেরদান থেকে ৪৮ কিলোমিটার (৩০ মাইল) দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং ভূপৃষ্ঠের ১৫ কিলোমিটার (৯ মাইল) গভীরে। এই বড় কম্পনের আগে সমুদ্রে আরও দূরে একটি ছোট ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছিল। এছাড়াও ইউএসজিএস-এর তথ্য অনুযায়ী, পরবর্তীতে ৫.১ থেকে ৬ মাত্রার অন্তত পাঁচটি আফটারশক বা পরাঘাত রেকর্ড করা হয়েছে।

ভূমিকম্পটি মেক্সিকো সিটি থেকে শুরু করে এল সালভাদর পর্যন্ত অনুভূত হয়েছে। মেক্সিকোর সীমান্ত শহর তাপাচুলায় কম্পনটি মৃদুভাবে শুরু হয়ে ধীরে ধীরে তীব্র আকার ধারণ করে। সেখানকার এক সরকারি হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আলেজান্দ্রা মেন্ডোজা জানান, তারা যখন দ্বিতীয় তলায় ছিলেন, তখন কম্পন শুরু হয়। শুরুতে এটি মৃদু মনে হলেও পরে তীব্রতা বাড়লে তারা দ্রুত নিচে নেমে এসে সামনের আঙিনায় আশ্রয় নেন।

গুয়াতেমালা সিটিতেও ভূমিকম্পটি দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কাজের ব্যস্ত সময়ে ভূমিকম্পের ফলে অনেক মানুষ রাস্তায় বেরিয়ে আসেন এবং বেশ কয়েকটি ভবন খালি করা হয়। গুয়াতেমালার ন্যাশনাল কোঅর্ডিনেটর ফর ডিজাস্টার রিডাকশন (CONRED) জানিয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু ভূমিধসের ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে, বিশেষ করে পশ্চিমমুখী সড়কগুলোতে। ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থলের কাছাকাছি সান মার্কোস, কোয়েৎজালতেনাঙ্গো, সুচিতিপেকুয়েজ এবং রেতালুলেউ বিভাগে সশরীরে ক্লাস স্থগিত করেছে দেশটির শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

মেক্সিকোর রাজধানী মেক্সিকো সিটিতেও বেশ কিছু ভবন কেঁপে ওঠে। তবে সরকারি ভাষ্যমতে, ভূমিকম্পের প্রথম কয়েক সেকেন্ডে নির্গত শক্তি সক্রিয়করণ সীমা অতিক্রম না করায় সেখানে ভূমিকম্পের সতর্কবার্তা বাজেনি। মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেইনবাম জানিয়েছেন, প্রাথমিক প্রতিবেদনে কোনো ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি।

সুনামির ঝুঁকির বিষয়ে মেক্সিকোর নৌবাহিনী উপকূলীয় এলাকায় ছয় ঘণ্টা সৈকতে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। চিয়াপাসের আবহাওয়া বিভাগ মেক্সিকো ও গুয়াতেমালার উপকূলে ১ মিটার (৩.৩ ফুট) পর্যন্ত সুনামি ঢেউয়ের সতর্কতা জারি করেছে। সুচিয়াতে শহরের মেয়র এলমার ভাজকুয়েজ গালার্দো জানিয়েছেন, মেক্সিকো ও গুয়াতেমালাকে বিভক্তকারী নদীর তীরবর্তী উপকূলীয় এলাকাগুলোতে সুনামি ঝুঁকির বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। অঞ্চলটি ভূমিকম্পপ্রবণ হওয়ায় এখানে আগে থেকেই বড় ধরনের ভূমিকম্পের ইতিহাস রয়েছে। চলতি বছরের শুরুর দিকে দক্ষিণ ও মধ্য মেক্সিকোতে একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে দুইজন নিহত হয়েছিলেন এবং ২০১৭ সালের ৭.১ মাত্রার ভূমিকম্পে মেক্সিকো সিটিতে শত শত মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন।