জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে ধারাবাহিক আন্দোলনের নতুন কৌশল নির্ধারণে মাঠে নামছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্য। সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগ এবং জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধির লক্ষ্যে জোটটি এখন বিভাগভিত্তিক লংমার্চ কর্মসূচির পরিকল্পনা করছে। ২৯ বা ৩০ আগস্ট থেকে এই কর্মসূচি শুরুর একটি প্রাথমিক প্রস্তাব জোটের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠকে উত্থাপন করা হয়েছে।
জোটের লিয়াজোঁ কমিটির সূত্র অনুযায়ী, লংমার্চের পাশাপাশি পথসভা, জনসভা, রাজধানীতে মহাসমাবেশ এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার ও আহত ব্যক্তিদের নিয়ে ধারাবাহিক সেমিনার ও আলোচনার প্রস্তাবও রয়েছে। আগামী ৫ আগস্ট রাজধানীর পল্টনে আয়োজিত সমাবেশ থেকে আন্দোলনের পরবর্তী ধাপের কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হতে পারে। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব আতাউল্লাহ আমিন জানিয়েছেন, লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠকে আসা প্রস্তাবগুলো নিয়ে ৩ আগস্ট শীর্ষ নেতাদের সভায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ঢাকা থেকে খুলনা, চট্টগ্রাম ও রংপুর বিভাগে লংমার্চ করার কথা ভাবা হচ্ছে। এই কর্মসূচির প্রতিটি পর্যায়ে একাধিক পথসভা ও জনসভা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে স্থানীয় নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়। প্রথম ধাপ সফলভাবে শেষ হলে পরবর্তীতে রাজশাহী, সিলেট, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগে একই ধরনের কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। এসব কর্মসূচির ফলে অক্টোবরে নির্ধারিত রাজধানীর মহাসমাবেশ নভেম্বর পর্যন্ত পিছিয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছেন জোটের নেতারা।
১১-দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ জানান, ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের পর থেকে তারা সাংবিধানিক সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন। তবে সরকারের পক্ষ থেকে জুলাই সনদ বা গণভোটের রায় বাস্তবায়নে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় তারা আন্দোলনের পরিধি বাড়াতে বাধ্য হচ্ছেন।
রাজনৈতিক দাবির পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, লোডশেডিং, গ্যাস-সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং কর্মসংস্থানের মতো জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোকেও তাদের কর্মসূচিতে গুরুত্ব দেওয়া হবে। জোটের শীর্ষ নেতাদের মতে, জনগণের দৈনন্দিন সমস্যাগুলো সামনে আনলে আন্দোলনের সামাজিক ভিত্তি আরও মজবুত হবে। এছাড়া, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিক সক্রিয়তা ধরে রাখাও তাদের অন্যতম লক্ষ্য। জোটের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, সরকারবিরোধী আন্দোলন হলেও তারা কোনো ধরনের সহিংস কর্মসূচি যেমন হরতাল বা জ্বালাও-পোড়াওয়ে যাবে না, বরং শান্তিপূর্ণ গণ-আন্দোলনের মাধ্যমেই দাবি আদায়ের চেষ্টা করবে।

