ওজন কমানোর পর ত্বক ঝুলে যাওয়া রোধে করণীয়

অতিরিক্ত ওজন কমানোর লক্ষ্যে অনেকেই কঠোর ডায়েট ও নিয়মিত ব্যায়ামের পথ বেছে নেন। কাঙ্ক্ষিত ওজন অর্জনের পর শরীর যেমন ছিপছিপে ও সুন্দর দেখায়, তেমনি অনেকের ক্ষেত্রে একটি নতুন সমস্যা হিসেবে দেখা দেয় চামড়া ঢিলে হয়ে যাওয়া বা ঝুলে পড়া। বিশেষ করে বাহু, পেট, উরু ও ঘাড়ের ত্বক ঝুলে পড়লে অনেকেই অস্বস্তিতে ভোগেন।

ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা মূলত কোলাজেন ও ইলাস্টিন নামের দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রোটিনের ওপর নির্ভর করে। বিশেষজ্ঞরা জানান, দীর্ঘদিন অতিরিক্ত ওজন থাকলে ত্বক প্রসারিত হয়। পরবর্তীতে খুব দ্রুত ওজন কমে গেলে সেই প্রসারিত ত্বক আগের অবস্থায় সহজে ফিরতে পারে না, যার ফলে ত্বক ঢিলে হয়ে যায়। এছাড়া বয়স, কত দ্রুত ওজন কমানো হয়েছে, কতটা ওজন কমেছে, বংশগত বৈশিষ্ট্য এবং পেশির অবস্থার ওপরও ত্বক ঝুলে পড়ার বিষয়টি নির্ভর করে।

এই সমস্যা মোকাবিলায় কিছু কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে। শুধু কার্ডিও নয়, ওজন কমানোর পাশাপাশি রেজিস্ট্যান্স বা স্ট্রেন্থ ট্রেনিং করলে পেশি শক্তিশালী হয়, যা শরীরের গঠন সুন্দর রাখে এবং ত্বক ঝুলে পড়ার ঝুঁকি কমায়। এছাড়া ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ ফল ও শাকসবজি কোলাজেন উৎপাদনে সহায়তা করে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত প্রোটিন গ্রহণ ত্বক ও পেশির স্বাস্থ্য ভালো রাখতে গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা খুব অল্প সময়ে অনেক ওজন না কমিয়ে ধাপে ধাপে স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে ওজন কমানোর পরামর্শ দেন।

যাদের ত্বক অতিরিক্ত ঝুলে গেছে, তারা চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ বা কসমেটিক সার্জনের পরামর্শ নিতে পারেন। বর্তমানে অস্ত্রোপচার ছাড়াও আধুনিক বিভিন্ন চিকিৎসা পদ্ধতির মাধ্যমে ত্বকের দৃঢ়তা বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়। তবে যেকোনো চিকিৎসা নেওয়ার আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। সবশেষে, সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত পানি পান এবং ধীরে ধীরে ওজন কমানোর পরিকল্পনা অনুসরণ করলে শুধু ওজনই নিয়ন্ত্রণে থাকে না, ত্বকের স্থিতিস্থাপকতাও অনেকাংশে বজায় রাখা সম্ভব হয়।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত