জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট চলমান মামলাগুলো আগামী এক বছরের মধ্যে নিষ্পত্তির জন্য কাজ করছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বিচারপ্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক সব মানদণ্ড কঠোরভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে এবং কোনোভাবেই তাড়াহুড়ো করে বিচার করা হবে না।
চিফ প্রসিকিউটর জানান, ২০২৪ সালের আগস্টে ট্রাইব্যুনাল গঠনের পর থেকে এখন পর্যন্ত ছয়টি মামলার বিচার সম্পন্ন হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ইচ্ছা করলে এর চেয়ে দ্রুত বিচার শেষ করা সম্ভব ছিল, তবে তাতে বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠতে পারত। তাই আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখেই বিচার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
বর্তমানে ট্রাইব্যুনালে জুলাই-সংশ্লিষ্ট মোট ২০টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এই মামলাগুলো আগামী এক বছরের মধ্যে নিষ্পত্তির জন্য প্রসিকিউশন কাজ করে যাচ্ছে এবং পাশাপাশি আপিল শুনানির প্রস্তুতিও চলমান রয়েছে। সারা দেশে জুলাই-সংশ্লিষ্ট ৫০৯টি ঘটনার তথ্য নথিভুক্ত হয়েছে বলে তিনি জানান। তদন্ত সম্পন্ন হওয়া ঘটনাগুলো ধাপে ধাপে ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন করা হচ্ছে।
শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে তিনি বলেন, তিনি কোথায় বক্তব্য দিচ্ছেন সেটি ট্রাইব্যুনালের বিবেচ্য বিষয় নয়। আদালতের রায় কার্যকর করার জন্য তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়াই ট্রাইব্যুনালের দায়িত্ব। তাকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব না হলে রায় বাস্তবায়নে বিলম্ব হতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বিচারপ্রক্রিয়ায় বাছাই করে আসামি করা হচ্ছে—এমন অভিযোগ সরাসরি নাকচ করে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, তদন্তকারী কর্মকর্তারা স্বাধীনভাবে কাজ করেন এবং প্রসিকিউশন তাতে হস্তক্ষেপ করে না। কোনো তদন্তে ঘাটতি বা অসঙ্গতি দেখা দিলে সেটি পুনঃতদন্তের জন্য ফেরত পাঠানো হয়। কারও এমন ধারণা থাকতে পারে যে ইচ্ছামতো আসামি করা হচ্ছে, তবে সেই ধারণা বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

