ঢাকেশ্বরী মন্দিরে সাম্প্রতিক সময়ে ঘটা সমকামী বিয়ের ঘটনার প্রেক্ষিতে এর সাথে জড়িতদের বিচারের দাবি জানিয়েছেন ১ হাজার ২৩০ জন নাগরিক। মঙ্গলবার দেশের শীর্ষস্থানীয় উলামায়ে কেরাম, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী ও ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা ‘ঢাকেশ্বরী মন্দিরে বেআইনি সমকামী বিবাহে জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিত করুন’ শিরোনামে একটি যৌথ বিবৃতি প্রদান করেছেন।
মূল্যবোধ আন্দোলনের মুখপাত্র প্রকৌশলী মুহাম্মাদ সাদাতের পাঠানো বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ঢাকেশ্বরী মন্দিরে সমলিঙ্গের বিয়ের ঘটনায় তারা বিস্মিত ও হতভম্ব। বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, কামাল হোসেন নামক একজন জন্মগত পুরুষ, যিনি তাসনুভা আনান শিশির নাম নিয়ে নিজেকে ট্রান্সজেন্ডার নারী দাবি করেন, তিনি প্রচলিত আইন ও ধর্মকে উপেক্ষা করে মন্দিরে অন্য এক হিন্দু পুরুষের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, কোনো চিকিৎসাপদ্ধতিই একজন পুরুষকে পূর্ণাঙ্গ নারীতে রূপান্তর করতে পারে না।
বিবৃতিতে বাংলাদেশের সংবিধান ও দণ্ডবিধির উল্লেখ করে বলা হয়েছে, সংবিধানে লিঙ্গ হিসেবে কেবল নারী ও পুরুষের স্বীকৃতি রয়েছে এবং ২০১৪ সালের গেজেটে হিজড়াদের আলাদা লিঙ্গ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। তবে ‘ট্রান্সজেন্ডার’ বলে কোনো লিঙ্গ বা ট্রান্সজেন্ডার নারীকে নারী হিসেবে গণ্য করার আইন বিদ্যমান নেই। এছাড়া দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারা অনুযায়ী সমকামিতা একটি নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। বিবৃতিতে ট্রান্সজেন্ডারবাদকে কুফরি মতবাদ ও চরমপন্থা হিসেবে আখ্যায়িত করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কঠোর অবস্থানের উদাহরণ টানা হয়েছে। ট্রান্সজেন্ডারবাদকে যেমন বিশ্বের বড় বড় ফতোয়া বিভাগ কুফরি মতবাদ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে, তেমনি যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশও ট্রান্সজেন্ডার উন্মাদনা (Transgender Insanity) দূরীকরণে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে এবং যে জেন্ডারবাদ থেকে ট্রান্সজেন্ডার ধারণার জন্ম, তাকে ‘চরমপন্থা’ (Extremism) ও নারী অধিকারের পরিপন্থী হিসেবে অভিযুক্ত করেছে।
বিবৃতি প্রদানকারী বিশিষ্ট নাগরিকদের মধ্যে রয়েছেন ড্যাফোডিল ইসলামিক সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক মোখতার আহমাদ, মসজিদ উত তাকওয়া সোসাইটির খতিব মুফতি সাইফুল ইসলাম, আইইউবির প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সরোয়ার হোসেন, মানারাত বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকচারার আসিফ মাহতাব উৎসসহ আরও অনেকে। আয়োজকদের মতে, স্বাক্ষরকারীদের তালিকায় ৩৮ জন অধ্যাপক, ২৪ জন সহযোগী অধ্যাপক ও ৪৫ জন সহকারী অধ্যাপক রয়েছেন।
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে বিবৃতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলা হয়, ঢাকেশ্বরী মন্দিরের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আইনবিরোধী এই ঘটনার এক সপ্তাহ পার হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ৯২ শতাংশ মুসলিম অধ্যুষিত দেশে এ ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তাই অনতিবিলম্বে ঘটনার তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানানো হয়েছে। বিবৃতিদাতাদের পূর্ণ তালিকা মূল্যবোধ ডট কম (mullobodh.com) ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

