বগুড়ায় এক ব্যাংক কর্মকর্তাকে অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের গুরুতর অভিযোগ ওঠার পর এনসিপির বগুড়া জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত ইমরানকে দল থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর কাছে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়েছে। এনসিপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নৈতিক স্খলন এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ও নৈতিকতাবিরোধী কর্মকাণ্ডে সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগ ওঠায় ইমরানের বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার এনসিপির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির পাঠানো এক চিঠিতে এসব তথ্য জানানো হয়। চিঠিতে বলা হয়েছে, শওকত ইমরানের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সে বিষয়ে দুই কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে হবে।
এনসিপির বগুড়া জেলা কমিটির আহ্বায়ক এম এস এ মাহমুদ জানিয়েছেন, শওকত ইমরানের বিরুদ্ধে অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের মামলার পাশাপাশি এক নারীর সঙ্গে তাঁর আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই তাঁকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া এবং কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
গত রোববার রাতে বগুড়া সদর থানায় শওকত ইমরানসহ চারজনের বিরুদ্ধে অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের মামলা করেন ইসলামী ব্যাংকের নওগাঁ শাখার জুনিয়র ট্রেইনি অফিসার আশরাফুল ইসলাম। মামলার এজাহারে আশরাফুল ইসলাম অভিযোগ করেন, গত শনিবার দুপুরে বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজসংলগ্ন ইসলামী ব্যাংকের এটিএম বুথ থেকে টাকা তুলে তিনি অটোরিকশায় বাড়ি ফিরছিলেন। পথে তিনমাথা রেলগেট এলাকায় শওকত ইমরানসহ কয়েকজন তাঁর গতি রোধ করেন। পরে তাঁকে জোর করে একটি ছাত্রাবাসে নিয়ে আটকে রেখে মারধর ও অস্ত্রের মুখে ৮২ হাজার টাকা, ২টি মুঠোফোন ও এটিএম কার্ড ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
তবে শওকত ইমরান তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, আশরাফুল ইসলাম বিভিন্ন নারীর নামে ভুয়া ফেসবুক আইডি খুলে অনলাইনে প্রতারণা করতেন। তাঁর পরিচিত এক ব্যক্তির কাছ থেকে ২৫ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগে আশরাফুলকে ডেকে দুটি মুঠোফোন পরীক্ষা করা হয়। পরে তিনি প্রতারণার মাধ্যমে নেওয়া ২৫ হাজার টাকা ফেরত দেন বলে শওকত ইমরান দাবি করেন।

