ভেজা চুলের যত্নে যেসব ভুল এড়িয়ে চলা জরুরি

গোসল সেরে উঠে ভেজা চুল দ্রুত শুকানোর তাড়াহুড়ো বা আঁচড়ানোর সময় আমরা অনেকেই না বুঝে কিছু ভুল করে ফেলি। আপাতদৃষ্টিতে এসব অভ্যাস স্বাভাবিক মনে হলেও, এগুলো চুলের চরম ক্ষতি করে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ভেজা অবস্থায় চুল সবচেয়ে স্পর্শকাতর ও দুর্বল থাকে। এই সময়ে অসাবধানতা চুল পড়া, চুল ফেটে যাওয়া এবং গোড়া দুর্বল হয়ে যাওয়ার প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই চুলের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে কোন অভ্যাসগুলো ভালো আর কোনটি বর্জনীয়, তা জানা জরুরি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চুলের যত্নে সবচেয়ে ক্ষতিকর অভ্যাসগুলোর একটি হলো ভেজা চুল নিয়ে ঘুমানো। ভেজা মাথার ত্বক ছত্রাক ও অন্যান্য জীবাণুর বংশবিস্তারের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে, যা খুশকি, চুলকানি এবং মাথার ত্বকে জ্বালাপোড়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। তাই রাতে ঘুমানোর আগে চুল ভালোভাবে শুকিয়ে নেওয়া উচিত।

চুল ধোয়ার ক্ষেত্রেও কিছু নিয়ম মেনে চলা প্রয়োজন। যারা নিয়মিত তেল ব্যবহার করেন, বেশি ঘামেন, ধুলাবালির মধ্যে থাকেন বা চুলে বিভিন্ন প্রসাধনী ব্যবহার করেন, তাদের জন্য দুইবার শ্যাম্পু করা উপকারী হতে পারে। এতে মাথার ত্বক ভালোভাবে পরিষ্কার হয়। তবে যাদের চুলে অতিরিক্ত ময়লা জমে না, তাদের বারবার দুইবার শ্যাম্পু করা ঠিক নয়, কারণ এতে মাথার ত্বকের প্রাকৃতিক তেল কমে যেতে পারে।

ভেজা চুলে ব্রাশ বা চিরুনি ব্যবহার না করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। ভেজা অবস্থায় চুল সবচেয়ে দুর্বল থাকে, ফলে জোরে আঁচড়ালে তা সহজেই ভেঙে বা ছিঁড়ে যেতে পারে। চুল কিছুটা শুকিয়ে গেলে বড় দাঁতের চিরুনি দিয়ে ধীরে ধীরে আঁচড়ানোই ভালো। এছাড়া চুলে তেল লাগিয়ে হালকাভাবে মাথার ত্বকে মালিশ করলে রক্ত চলাচল বৃদ্ধি পায় এবং পরিচর্যার উপকরণগুলো ভালোভাবে ছড়িয়ে পড়ে। তবে অতিরিক্ত চাপ দিয়ে মালিশ করলে উল্টো মাথার ত্বকের ক্ষতি হতে পারে।

চুলের ডগা নিয়মিত ছাঁটার অভ্যাসও বেশ উপকারী। এতে চুল দ্রুত বড় না হলেও ফাটা ডগা ছড়িয়ে পড়া রোধ হয়, ফলে চুল দেখতে স্বাস্থ্যোজ্জ্বল, মসৃণ ও পরিচ্ছন্ন লাগে। এছাড়া ঘুমের সময় মসৃণ কাপড়ের বালিশের কভার ব্যবহার করলে চুলের সঙ্গে ঘর্ষণ কম হয়, যা জট বাঁধানো, রুক্ষভাব ও ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি কমায়। নিয়মিত যত্নের পাশাপাশি সঠিক অভ্যাস গড়ে তুললে দীর্ঘমেয়াদে চুল সুস্থ ও মজবুত রাখা সম্ভব।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত