সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়ায় মেটাকে আরও ৫৬৭ মিলিয়ন ডলার জরিমানা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকোর এক বিচারক। শিশু নিরাপত্তা সংক্রান্ত ইস্যুতে মেটার বিরুদ্ধে এটি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় অঙ্কের জরিমানা। বৃহস্পতিবার এই রায় প্রদানের সময় বিচারক ব্রায়ান বিডশিড মেটার প্ল্যাটফর্মগুলোকে ‘পাবলিক নিউস্যান্স’ বা জনস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর সমস্যা হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি নির্দেশ দিয়েছেন, মেটাকে একটি বিশেষ তহবিল গঠন করতে হবে, যা ভবিষ্যতে শিশুদের সুরক্ষায় ব্যয় করা হবে।
নতুন এই ৫৬৭ মিলিয়ন ডলার জরিমানার ফলে আগের ৩৭৫ মিলিয়ন ডলারসহ এই মামলায় মেটার মোট জরিমানার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯৪২ মিলিয়ন ডলারে। বিচারক বিডশিড মেটার বাণিজ্যিক মডেলকে একটি কারখানার সঙ্গে তুলনা করে বলেন, মেটার প্রধান পণ্য হলো বিজ্ঞাপন ও কনটেন্ট, আর শিশুদের মানসিক ক্ষতি ও যৌন শোষণ হলো সেই কারখানা থেকে নির্গত দূষণ, যা নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, নতুন গঠিত তহবিলের ৪২০ মিলিয়ন ডলার শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের অর্থায়ন এবং শিক্ষক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণের মতো প্রতিরোধমূলক কাজে ব্যয় করতে হবে। এছাড়া শিশুদের সুরক্ষায় বেশ কিছু নতুন পদক্ষেপ নিতে মেটাকে বাধ্য করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১৮ বছরের কম বয়সীদের অ্যাকাউন্ট প্রাপ্তবয়স্কদের কাছে সুপারিশ না করা, প্রাপ্তবয়স্কদের মেসেজ পাঠানোর সুযোগ বন্ধ করা, নগ্ন ছবি আদান-প্রদান নিষিদ্ধ করা, শিশু যৌন শোষণে জড়িতদের বিরুদ্ধে ‘একবারেই নিষেধাজ্ঞা’ নীতি চালু করা, লাইক সংখ্যা গোপন করা এবং রাত ১০টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত পুশ নোটিফিকেশন বন্ধ রাখা। এছাড়া স্কুল চলাকালে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত নোটিফিকেশন বন্ধ এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের মাসে সর্বোচ্চ ৯০ ঘণ্টা ব্যবহারের সীমা নির্ধারণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মেটা এই রায়ের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানের মুখপাত্রের দাবি, তারা প্ল্যাটফর্ম নিরাপদ রাখতে নিয়মিত কাজ করছেন এবং ক্ষতিকর কনটেন্ট অপসারণের চ্যালেঞ্জের বিষয়ে স্বচ্ছ ছিলেন। ২০২৩ সালে শুরু হওয়া এই মামলায় অভিযোগ ছিল, মেটার প্ল্যাটফর্মগুলো শিশুদের যৌন অপরাধীদের সংস্পর্শে নিয়ে যাচ্ছে এবং এর প্রভাব শুধু অনলাইন নয়, বরং বাস্তব জীবনেও পরিবার ও সমাজের ওপর বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। উল্লেখ্য, বিশ্বজুড়ে শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নও কঠোর আইন প্রণয়নের কথা ভাবছে।

