মিথ্যা অভিযোগে মানহানির প্রতিবাদে বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য বীথিকা বিনতে হোসাইনকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফাইড পেজে এক পোস্টে তিনি বিষয়টি নিশ্চিত করেন। একই দিনে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম জনির মাধ্যমে রেজিস্টার্ড ডাকযোগে এই নোটিশ পাঠানো হয়।
আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার ফেসবুক পোস্ট অনুযায়ী, বিগত দুই বছর ধরেই তিনি নানা রকম অপবাদ এবং অপপ্রচারের শিকার হচ্ছেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকেই পরাজিত ফ্যাসিস্ট শক্তি এবং রাজনৈতিক স্বার্থে কিছু মহল নিয়মিতভাবে গণ-অভ্যুত্থানের নেতাদের বিরুদ্ধে নানারকম অপপ্রচার ও চরিত্রহননের চেষ্টা করে যাচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কেউ তার বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ কিংবা প্রমাণ উত্থাপন করতে পারেনি।
পোস্টে অভিযোগ করা হয়েছে যে, কয়েকদিন আগে একটি পাবলিক প্রোগ্রামে বিএনপির সংরক্ষিত আসনের নারী সংসদ সদস্য বীথিকা বিনতে হোসাইন অভিযোগ করেন যে, বিসিবির সদস্য হওয়ার জন্য আসিফ মাহমুদ তার কাছে তিন কোটি টাকা দাবি করেছেন। বিষয়টি গণমাধ্যমে আসার পর আসিফ মাহমুদের পক্ষ থেকে কয়েক দফা বীথিকা বিনতে হোসাইনের সঙ্গে যোগাযোগ করে অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ অথবা সুনির্দিষ্টভাবে কে, কার থেকে অর্থ দাবি করেছে তা জানতে চাওয়া হয়। তিনি একাধিকবার তথ্য দেবেন বলেও কোনো প্রকার তথ্য দেননি। বারবার যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ‘আমাকে তো এমনটাই বলা হয়েছে’। পরবর্তীতে তিনি জানাবেন বলেও যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। এতে প্রতীয়মান হয় যে, তিনি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে চরিত্রহননের উদ্দেশ্যেই উক্ত বক্তব্য দিয়েছেন।
এমন পরিস্থিতিতে আসিফ মাহমুদ তার নামে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন। নোটিশে আগামী সাতদিনের মধ্যে বীথিকা বিনতে হোসাইনকে তার অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ উপস্থাপন করতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। অন্যথায়, তাকে বক্তব্য প্রত্যাহার করে প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে। যদি তিনি এর কোনোটিই না করেন, তবে আসিফ মাহমুদ প্রচলিত আইনে মানহানির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।
পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয়, এসব ধারাবাহিক অপপ্রচার কেবল আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে নয়; বরং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব, চেতনা ও অর্জনকে পরিকল্পিতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টার অংশ। আসিফ মাহমুদ একা নন, জুলাইয়ের পক্ষের আরও অনেকে একই ধরনের মিথ্যাচার ও অপপ্রচারের শিকার হয়েছেন। এখন থেকে মিথ্যাচার, অপপ্রচার ও চরিত্রহননের প্রতিটি অপচেষ্টার জবাব আইনের মাধ্যমেই দেওয়া হবে।

