নেছারাবাদে ১২ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাশ মাত্র একজন, ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা

পিরোজপুরের নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠি) উপজেলার মৈশানী বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী ১২ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র একজন উত্তীর্ণ হতে পেরেছে। বিদ্যালয়টিতে ১১ জন শিক্ষক কর্মরত থাকার পরও এমন শোচনীয় ফলাফলে অভিভাবকরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এর আগেও ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষায় বিদ্যালয়টির আটজন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে মাত্র একজন পাশ করেছিল।

অভিভাবকদের অভিযোগ, বিদ্যালয়টির শিক্ষার মান ক্রমাগত নিম্নগামী হচ্ছে। তাদের দাবি, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিতি যেমন কম, তেমনি শিক্ষকদের উপস্থিতি এবং পাঠদান পদ্ধতি নিয়েও বিভিন্ন প্রশ্ন রয়েছে। কাগজে-কলমে বিদ্যালয়ে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী নিবন্ধিত থাকলেও বাস্তবে নিয়মিত ১৫-২০ জনের বেশি শিক্ষার্থীকে ক্লাসে দেখা যায় না।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হচ্ছে। বর্তমানে ১১ জন শিক্ষক, একজন ক্লার্ক এবং একজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীসহ মোট ১৩ জন জনবল রয়েছেন। তাদের বেতন-ভাতা বাবদ প্রতি মাসে সরকারের তিন লাখ টাকারও বেশি ব্যয় হয়।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা পর্ষিয়া রানী হালদার বলেন, এ বছর ১২ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল, যার মধ্যে একজন পাশ করেছে। গত বছরও আটজনের মধ্যে একজন পাশ করেছিল। এ বছর পাশ করা শিক্ষার্থীর নাম ও কোন গ্রেডে পাশ করেছে জানতে চাইলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে তা মনে করতে পারেননি। ১১ জন শিক্ষক থাকার পরও এমন ফলাফলের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের চেষ্টা করেও স্কুলে আনা যাচ্ছে না, তারা ঠিকমতো না পড়লে শিক্ষকদের দোষ কী?