ঝালকাঠির রাজাপুরে একটি বালুবাহী জাহাজের ধাক্কায় আয়রন ব্রিজ ভেঙে পড়ার পর তিন দিন ধরে সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন রাজাপুর, ভান্ডারিয়া ও কাঁঠালিয়া উপজেলার হাজার হাজার মানুষ। বাধ্য হয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা জনপ্রতি ৫ টাকা দিয়ে চরম ঝুঁকি নিয়ে খেয়া নৌকায় পারাপার হচ্ছেন।
গত রোববার সকালে উপজেলার গালুয়া ইউনিয়নের পুটিয়াখালী মীরেরহাট থেকে আরুয়া-সোনারগাঁও সংযোগ সড়কের জালোবাড়ি খালের ওপরের ব্রিজটিতে একটি বালুবাহী জাহাজ সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ব্রিজটি ভেঙে খালের মধ্যে পড়ে যায়। পরবর্তীতে দুর্ঘটনাকবলিত জাহাজটি উদ্ধার করে সরিয়ে নেওয়া হলেও ব্রিজটি সংস্কারে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে আছে।
এলাকাবাসী জানান, এই আয়রন ব্রিজটি আগে থেকেই বেশ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। দীর্ঘদিন ধরে এটি সংস্কারের দাবি জানানো হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, নৌপথে বালুবাহী জাহাজের বেপরোয়া চলাচলের কারণে বিভিন্ন এলাকায় প্রায়ই ব্রিজ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কিন্তু এসব জাহাজের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় এ ধরনের দুর্ঘটনা বারবার ঘটছে।
জানা গেছে, ব্রিজে ধাক্কা দেওয়া বালুবাহী জাহাজটির মালিক উপজেলার বড়ইয়া ইউনিয়নের সোনারগাঁও এলাকার বাসিন্দা আব্দুল গনি সিকদারের ছেলে বাদশা সিকদার। তবে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি। বর্তমানে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ব্রিজটি সংস্কার করে যান চলাচল স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে নৌপথে নজরদারি বাড়িয়ে বালুবাহী জাহাজের চলাচল নিয়ন্ত্রণেরও দাবি তুলেছেন তারা।
এ বিষয়ে রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত আরা মৌরি জানান, স্থানীয় জনগণের কষ্ট লাঘব করতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অন্যদিকে, উপজেলা প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদার জানিয়েছেন, সরকারি ব্রিজ ক্ষতিগ্রস্ত করার অপরাধে অভিযুক্ত জাহাজ মালিকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

