ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে আমন ধান আবাদে নেমে পড়েছেন কৃষকরা। চলতি মৌসুমে জমি চাষ, সেচ প্রদান এবং চারা রোপণের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। গত বোরো মৌসুমে ধানের ভালো ফলন ও সন্তোষজনক দাম পাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে আমন চাষের আগ্রহ বেড়েছে। বোরোর চেয়েও ভালো ফলন পাওয়ার প্রত্যাশায় তারা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে আখাউড়ায় ৪ হাজার ৪১০ হেক্টর জমিতে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। রোপণকৃত জমির মধ্যে ব্রি-৫২, ৭৫, ৮৫, ৮৭, ৯৩, ৯৫, ৯৬, ৯৭, ১০৩ এবং বিআর ২৩-এর মতো উন্নত ও উচ্চফলনশীল জাতের ধান রয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর থেকে কৃষকদের প্রণোদনা হিসেবে ৫ কেজি বীজ ধান, ১০ কেজি এমওপি এবং ১০ কেজি ডিওপি সার সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
পৌর এলাকার তারাগন, দেবগ্রাম, নারায়নপুর এবং হীরাপুর, বাউতলা, উমেদপুর ও ধাতুরপহেলাসহ বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, মাঠজুড়ে চারা রোপণের ধুম পড়েছে। তবে শ্রমিক সংকট থাকায় মজুরি কিছুটা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। কৃষক মিলন মিয়া জানান, তিনি ৬ বিঘা জমিতে আমন আবাদ করছেন, যার মধ্যে ২ বিঘা রোপণ শেষ হয়েছে। ট্রাক্টর দিয়ে জমি চাষে বিঘা প্রতি ৫০০ টাকা এবং চারা রোপণে ১৬০০ থেকে ১৮০০ টাকা খরচ হচ্ছে। খরচ বাড়লেও ভালো দাম পেলে লাভের আশা করছেন তিনি।
কৃষক আবুল কাশেম জানান, কৃষি অফিস থেকে পাওয়া বীজ ও সার ব্যবহার করে তিনি ৭ বিঘা জমিতে ব্রি-৯৩, ৯৫ ও ১০৩ জাতের ধান রোপণ করছেন। গত মৌসুমে ১০ বিঘা জমিতে বোরো চাষ করে লাভবান হওয়ায় এবারও তিনি আশাবাদী। একই সুর শোনা গেল মিজান মিয়ার কণ্ঠে, যিনি ৮ বিঘা জমিতে আমন চাষ করছেন। তার মতে, আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতির ব্যবহারে জমি প্রস্তুত করা সহজ হয়েছে এবং সময়মতো বৃষ্টি হওয়ায় এবার চাষাবাদে কোনো বিঘ্ন ঘটেনি।
তবে ধানের ন্যায্যমূল্য নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ রয়েছে কৃষকদের। তাজুল ইসলাম বলেন, চালের দাম বাড়লেও সে অনুপাতে ধানের দাম বাড়ে না, যা কৃষকদের জন্য চ্যালেঞ্জিং। তবুও ভালো ফলনের আশায় তারা মাঠে কাজ করে যাচ্ছেন।
আখাউড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা জানান, মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের উচ্চফলনশীল জাতের ধান আবাদে উৎসাহিত করা হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা শতভাগ অর্জিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এরইমধ্যে ৩ বিঘা জমিতে চারা লাগানো হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মিজান মিয়া বলেন, আধুনিকতার ছোঁয়ায় কৃষিকাজে অনেক পরিবর্তন এসেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বাকী জমিগুলো আবাদ করতে প্রস্তুত করছি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সময়মতো চারা রোপণ করলে ধানও ঠিক সময়ে কাটা যায়।

