প্রাথমিক শিক্ষায় সরকারি বৃত্তি ও উপবৃত্তি বিতরণে প্রচলিত সমতার ধারণার পরিবর্তে শিক্ষার্থীর প্রকৃত আর্থিক প্রয়োজন ও বাস্তব অবস্থাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, সীমিত সরকারি সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে কেবল প্রয়োজনে থাকা শিশুদের কাছেই এই সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে। আজ ঢাকার বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র মিলনায়তনে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, পিপিআরসি ও ইউনিসেফের যৌথ আয়োজনে ‘প্রমাণ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ: বিদ্যালয় পর্যায়ের উন্নয়ন পরিকল্পনা’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, সব শিক্ষার্থীকে একইভাবে সহায়তা প্রদান করলে প্রকৃত সমতা নিশ্চিত হয় না। বরং যার জন্য এই আর্থিক সহায়তা শিক্ষা অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রে সত্যিকার অর্থে প্রয়োজন, তাকেই গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে শিক্ষার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও সামর্থ্যবান পরিবার যদি সন্তানকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়, তবে তাদের ক্ষেত্রে সরকারি উপবৃত্তির প্রয়োজনীয়তা নতুন করে বিবেচনা করা উচিত। দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের একটি শিশুর জন্য এই সামান্য সহায়তাও স্কুলে উপস্থিতি ও ঝরে পড়া রোধে বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
শিশুদের নিরাপত্তা ও জীবনদক্ষতা বাড়াতে সাঁতার শেখানোর ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শিশুরা জলাশয় ও নদীবেষ্টিত এলাকায় বসবাস করে, তাই সাঁতার কেবল ক্রীড়া নয়, বরং এটি তাদের জীবনরক্ষার অন্যতম দক্ষতা। প্রাথমিক শিক্ষার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে সাঁতারকে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে শিশুকে কেবল বইয়ের জ্ঞানের পাশাপাশি নিজের জীবন রক্ষার কৌশলও শেখানো যায়।
ববি হাজ্জাজ আরও বলেন, সরকারের মূল লক্ষ্য শুধু ভর্তি নিশ্চিত করা নয়, কোনো শিশুই যেন আর্থিক সংকটের কারণে শিক্ষা থেকে ছিটকে না পড়ে। সরকারি সহায়তার কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে তথ্যনির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং প্রকৃত সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থী চিহ্নিত করার সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর তিনি জোর দেন।
অনুষ্ঠানে ইউনিসেফের শিক্ষা বিশেষজ্ঞ জয় মিলান মালের সূচনা বক্তব্য দেন এবং গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। এ সময় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

