বাঞ্ছারামপুরে নববধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, স্বামী পলাতক: যৌতুকের অভিযোগ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে সামিয়া সুলতানা (১৯) নামে এক নববধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২৯ মে) সকালে উপজেলার পাহাড়িয়া কান্দি ইউনিয়নের হিজুলিয়া কান্দি গ্রামের স্বামীর বাড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত স্বামী রুমান (২৫) পলাতক রয়েছেন।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নিহত সামিয়া সুলতানা উপজেলার পাহাড়িয়া কান্দি গ্রামের হুমায়ুন কবীরের মেয়ে। তার স্বামী রুমান একই ইউনিয়নের হিজুলিয়া কান্দি গ্রামের কামরুল হাসানের ছেলে। রুমান পূর্বে সৌদি প্রবাসী ছিলেন এবং কয়েক মাস আগে দেশে ফিরে আসেন।

পারিবারিক তথ্য অনুযায়ী, সামিয়া ও রুমান প্রেমের সম্পর্কে আবদ্ধ ছিলেন এবং তারা কোর্ট ম্যারেজ করেন। পরবর্তীতে গত ১৬ জানুয়ারি পারিবারিকভাবে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের পর সামিয়াকে তার শ্বশুর-শাশুড়ি স্বামীর বাড়িতে নিয়ে যান।

নিহতের বোন শাহিদা আক্তার অভিযোগ করেছেন যে, বিয়ের পর থেকেই সামিয়ার শাশুড়ি যৌতুক দাবি করে আসছিলেন। তিনি আরও জানান, কিছুদিন আগে মোটরসাইকেল কেনার জন্য রুমান তার বোন সামিয়াকে মারধর করেন এবং মানসিক নির্যাতন চালান। শাহিদা আক্তার দৃঢ়ভাবে দাবি করেন যে, সামিয়া আত্মহত্যা করেননি; বরং তাকে হত্যার পর মরদেহ ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। এই ঘটনার পর থেকেই স্বামী রুমান আত্মগোপন করেছেন।

বাঞ্ছারামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইয়াছিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এক নববধূর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ওসি আরও জানান, এই ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।