জাতিসংঘের বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়ে আবারও কঠোর অবস্থানের বহিঃপ্রকাশ ঘটালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত ২২ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে নিজের বক্তব্যে ইরানের প্রতি সবচেয়ে আক্রমণাত্মক বার্তাটি তুলে ধরেন তিনি। ট্রাম্প পরিষ্কারভাবে জানিয়েছেন, তেহরান যদি কোনো সমঝোতায় না আসে, তবে তাদের ভয়াবহ সামরিক পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে। তার দাবি, বর্তমান প্রশাসনের কৌশলী পদক্ষেপের কারণেই ইরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের লক্ষ্য থেকে দূরে থাকতে বাধ্য হয়েছে।
ইরানকে আন্তর্জাতিকভাবে আরও কোণঠাসা করার আহ্বান জানিয়ে বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে ট্রাম্প বলেন, দেশটির ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ানো প্রয়োজন। তবে ভাষণের পরবর্তী অংশে কিছুটা নমনীয় হওয়ার ইঙ্গিত দেন তিনি। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান আলোচনার কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প জানান, শেষ পর্যন্ত একটি কার্যকর সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব বলে তিনি আশাবাদী। পররাষ্ট্রনীতির বিষয়ে নিজের অবস্থানের পক্ষে যুক্তি দিয়ে হোয়াইট হাউজের এই বার্তাই তুলে ধরার চেষ্টা করেন যে, অন্য রাষ্ট্রগুলো যখন কেবল আলোচনা নিয়ে ব্যস্ত, তার প্রশাসন তখন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে বিশ্বাসী।
জাতিসংঘের এই অধিবেশনে বিশ্ব রাজনীতির নানা গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু উঠে আসে। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) কর্মকাণ্ড নিয়ে বেশ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখান ট্রাম্প এবং সংস্থাটির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। এছাড়াও চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সংকট নিরসন নিয়েও তিনি তার সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন।
প্রযুক্তি ও ভবিষ্যৎ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ট্রাম্পের দর্শনেও ভিন্নতা দেখা গেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-কে তিনি ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ হিসেবে আখ্যায়িত করতে চেয়েছেন। তবে একই মঞ্চে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এআই প্রযুক্তির ওপর একটি শক্তিশালী আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নে দুই শীর্ষ নেতৃত্বের এই বিপরীতমুখী চিন্তাধারা বিশ্ববাসীর নজর কেড়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: একই সঙ্গে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির পুনরুচ্চারণ করে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সমঝোতা না হলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর সামরিক ব্যবস্থা নিতে পারে বলেও হুঁশিয়ারি দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে কঠোর হুঁশিয়ারির মধ্যেও কূটনৈতিক সমাধানের দরজা পুরোপুরি বন্ধ করেননি ট্রাম্প। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ইরানের পক্ষ থেকেও হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে কিছু শর্তসাপেক্ষ ইতিবাচক ইঙ্গিত এসেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ভাষণে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি এবং একতরফাভাবে জাতীয় স্বার্থ রক্ষার সক্ষমতাকে সামনে আনেন তিনি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ট্রাম্পের বক্তব্যে স্পষ্ট ছিল, বহুপাক্ষিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার চেয়ে তিনি স্বাধীন রাষ্ট্রের সার্বভৌম সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাকে বেশি গুরুত্ব দিতে চান। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও স্বার্থের প্রশ্নে ওয়াশিংটন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের অনুমতির অপেক্ষায় থাকবে না।

