ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থাকে আরও সহজ ও সাশ্রয়ী করতে বাংলাদেশ ব্যাংক বাংলা কিউআর সেবায় নতুন বেশ কিছু পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, আগামী ১ নভেম্বর থেকে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি বা পি-টু-পি লেনদেন ব্যবস্থা চালু করা হবে। এর ফলে একজন গ্রাহক খুব সহজেই অন্য গ্রাহকের কিউআর কোড স্ক্যান করে বা মোবাইল অ্যাপে ছবি আপলোড করার মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর করতে পারবেন। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বর্তমানে ব্যাংক ও মোবাইল আর্থিক সেবার গ্রাহকেরা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে দেশজুড়ে প্রায় ৪০ লাখ মার্চেন্টে বাংলা কিউআর স্ক্যান করে পণ্যের মূল্য পরিশোধ করতে পারছেন। বাংলা কিউআরের ব্যবহার বাড়াতে গত ১ জুলাই থেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব কিউআরের পরিবর্তে বাংলা কিউআর ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
দেশের একক আন্তঃব্যবহারযোগ্য ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা হিসেবে পরিচিত বাংলা কিউআরের জনপ্রিয়তা বর্তমানে বাড়ছে। বর্তমানে প্রায় ৪০ লাখ মার্চেন্ট পয়েন্টে এই পদ্ধতিতে মূল্য পরিশোধের সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাই মাসের তুলনায় বর্তমানে লেনদেনের সংখ্যা প্রায় সাড়ে তিন গুণ বেড়েছে। বর্তমানে দৈনিক গড়ে ৩ লাখ ৫০ হাজার লেনদেন হচ্ছে, যার আর্থিক মূল্য দৈনিক প্রায় ১৪৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। জুনে যেখানে দৈনিক গড় লেনদেন ছিল ১ লাখ, সেখানে তিন মাসের ব্যবধানে এটি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তখন লেনদেনের পরিমাণ ছিল দৈনিক গড়ে ২৮ কোটির বেশি টাকা। অর্থাৎ ১ জুলাই থেকে ৯০ দিনের ব্যবধানে লেনদেনের সংখ্যা গড়ে সাড়ে তিন গুণ এবং লেনদেনের অর্থের পরিমাণ প্রায় পাঁচ গুণ বেড়েছে। এতে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মার্চেন্টদের জন্য পেমেন্ট খরচ কমাতে ১ অক্টোবর থেকে নতুন নিয়ম কার্যকর করা হচ্ছে। এই তারিখ থেকে লেনদেনের অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে মার্চেন্টের অ্যাকাউন্টে জমা হবে। পাশাপাশি অর্থগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য নির্ধারিত ১ শতাংশ মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট হার বাতিল করা হয়েছে এবং আন্তঃপ্রতিষ্ঠান ফি শূন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ব্যাংক ও মোবাইল আর্থিক সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো মার্চেন্টদের আরও কম খরচে বা বিনা মূল্যে সেবা দেওয়ার সুযোগ পাবে।
লেনদেন উৎসাহিত করতে প্রণোদনার ঘোষণাও দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ১ অক্টোবর থেকে জাতীয় পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশের মাধ্যমে সম্পাদিত ২ হাজার টাকা পর্যন্ত প্রতিটি বাংলা কিউআর লেনদেনে অর্থগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানকে শূন্য দশমিক ১০ শতাংশ এবং অর্থপ্রদানকারী প্রতিষ্ঠানকে শূন্য দশমিক ২০ শতাংশ হারে প্রণোদনা দেওয়া হবে।
গ্রাহকদের আস্থা ও সুরক্ষা নিশ্চিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বেশ কিছু কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে। গত ২৭ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে একটি সুনির্দিষ্ট নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে, যাতে লেনদেন-সংক্রান্ত বিরোধ দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়। এছাড়া লেনদেন ব্যর্থ হলে দ্রুত অর্থ ফেরতের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বাংলা কিউআর সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ বা সহায়তার জন্য গ্রাহকরা ১৬২৩৬ নম্বরে হটলাইনে যোগাযোগ করতে পারবেন।
এই পুরো কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি কার্যকরী কমিটি ব্যাংক ও মোবাইল আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের নিয়ে কাজ করছে। এছাড়া গভর্নর কর্তৃক গঠিত স্টিয়ারিং কমিটি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে এর কৌশলগত দিকগুলো তদারকি করছে। প্রান্তিক পর্যায় পর্যন্ত ডিজিটাল অর্থনীতি ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পেমেন্ট ব্যবস্থা পৌঁছে দেওয়াই এর মূল লক্ষ্য।

