হামজার লাল কার্ডে ক্ষুব্ধ শেফিল্ড কোচ ক্রিস ওয়াইল্ডার

ইংলিশ চ্যাম্পিয়নশিপে বুধবার রাতে পোর্টসমাউথের মাঠে গিয়ে ৩-২ গোলের হতাশাজনক হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে শেফিল্ড ইউনাইটেডকে। এই ম্যাচে পরাজয়ের চেয়েও বেশি আলোচিত হচ্ছে রেফারি অলিভার ল্যাংফোর্ডের বিতর্কিত সব সিদ্ধান্ত, বিশেষ করে বাংলাদেশ জাতীয় দলের মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরীর লাল কার্ড পাওয়া নিয়ে চলছে তীব্র সমালোচনা। ম্যাচের পর এমন পক্ষপাতমূলক রেফারিংয়ের বিরুদ্ধে কড়া ক্ষোভ ঝেড়েছেন শেফিল্ড কোচ ক্রিস ওয়াইল্ডার। ইংলিশ চ্যাম্পিয়নশিপের ম্যাচে হামজা চৌধুরীর জন্য বুধবারের রাতটা মোটেও সুখকর হলো না। পরাজয়ের চেয়ে রেফারির বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়েই এখন চারদিকে চলছে মূল আলোচনা।

ফ্র্যাটন পার্কে ম্যাচের শুরুটা খারাপ হলেও ৫৪ মিনিটের মধ্যে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর দারুণভাবে খেলায় ফিরেছিল শেফিল্ড। তবে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণী মোড় আসে প্রথমার্ধের ৪৪ মিনিটে। চেলসি থেকে ধারে খেলতে আসা পোর্টসমাউথের উইঙ্গার রায়ান কাভুমা-ম্যাককুইনকে ফাউল করার অভিযোগে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখেন হামজা। মাত্র ৯ মিনিটের ব্যবধানে দুটি হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হওয়ায় বাকি সময়টা শেফিল্ডকে ১০ জন খেলোয়াড় নিয়েই লড়তে হয়েছে। যদিও ম্যাচের মূল মোড় ঘুরে যায় প্রথমার্ধের শেষভাগে এসে।

সংবাদ সম্মেলনে রেফারির সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে শেফিল্ড বস ওয়াইল্ডার বলেন, রায়ান যখন নাটমেগ বা পায়ের ফাঁক দিয়ে বল বের করার চেষ্টা করছিল, তখন হামজার সঙ্গে তার ধাক্কা লাগে। সেখানে হামজার সরে যাওয়ার কোনো সুযোগই ছিল না। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে যোগ করেন, ‘হামজা কোথায় যাবে? সে কি অদৃশ্য? প্রথমে রেফারি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন হামজাকে কার্ড দেবেন না, কিন্তু প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়দের চাপে শেষ পর্যন্ত তিনি নিজের সিদ্ধান্ত বদলে ফেলেন। আমাদের সঙ্গে চরম অবিচার করা হয়েছে।’ তবে ডিফেন্সের ভুল আর শেষ মুহূর্তের গোল সব ওলোটপালোট করে দেয়। তবে রেফারি তাতে কোনো কর্ণপাত করেননি।

ম্যাচের শেষদিকে পেনাল্টি বক্সের ভেতরে শেফিল্ডের এক খেলোয়াড়ের জার্সি টেনে ধরার ঘটনায় রেফারি কোনো সাড়া না দেওয়ায় ওয়াইল্ডারের ক্ষোভ আরও বেড়েছে। তিনি মনে করেন, এমন ধারাবাহিকতাহীন ও পক্ষপাতদুষ্ট সিদ্ধান্তগুলো দলের জয়ের স্বপ্নকে ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে। হারের ফলে ১০ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের ১৫ নম্বরে নেমে গেছে শেফিল্ড। উল্লেখ্য, চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত শেফিল্ডের হয়ে ৩টি ম্যাচ খেলেছেন হামজা চৌধুরী, তবে কোনো গোলের দেখা পাননি তিনি। ফলে প্রায় পুরো একটি অর্ধে ১০ জন নিয়ে লড়তে বাধ্য হয় শেফিল্ড। ১০ ম্যাচ শেষে ১২ পয়েন্ট নিয়ে বর্তমানে ১৫ নম্বরে রয়েছে তারা। শুধু লাল কার্ডই নয়, ম্যাচের শেষ মুহূর্তে পেনাল্টি বক্সের ভেতরে শেফিল্ডের এক খেলোয়াড়ের জার্সি টেনে ধরার ঘটনাও ওয়াইল্ডারের ক্ষোভের পালে নতুন হাওয়া দেয়।