আরব আমিরাতের ত্রিদেশীয় সিরিজে ফেভারিট আফগানিস্তান

আগামী ১৭ অক্টোবর আবুধাবিতে শুরু হতে যাওয়া ত্রিদেশীয় ক্রিকেট সিরিজের শিরোপা জয়ের দৌড়ে আফগানিস্তানকে ফেভারিট হিসেবে দেখছেন দলটির অধিনায়ক রহমত শাহ। বাংলাদেশ, জিম্বাবুয়ে এবং আফগানিস্তানের অংশগ্রহণে এই সিরিজটি আবুধাবির মাটিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের কন্ডিশনের সাথে দীর্ঘদিনের পরিচিতি এবং নিয়মিত সেখানে খেলার অভিজ্ঞতা তার দলকে প্রতিপক্ষ বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ের তুলনায় এগিয়ে রাখবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

কন্ডিশনের বাড়তি সুবিধা ও আত্মবিশ্বাস

সংবাদ সম্মেলনে রহমত শাহ বলেন, “আমি মনে করি আফগানিস্তান এখানে ফেভারিট দল কারণ আমরা আরব আমিরাতের মাঠগুলোতে নিয়মিত খেলছি। বিশেষ করে আবু ধাবি বা শারজাহর কন্ডিশন আমাদের খুব পরিচিত, তাই স্থানীয় কন্ডিশনের বাড়তি সুবিধা আমরা নিশ্চিতভাবেই পাব।” তিনি আরও জানান, অন্যান্য দলগুলোও টুর্নামেন্টের জন্য ভালো প্রস্তুতি নিয়েছে এবং এটি একটি দারুণ সিরিজ হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশের বিপক্ষে সদ্য সমাপ্ত টেস্ট ড্র হওয়ার বিষয়টি আফগানিস্তান দলকে বড় আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে। কঠিন পরিস্থিতি থেকে লড়াইয়ে ফিরে টেস্টটি ড্র করাকে তিনি ঐতিহাসিক অর্জন হিসেবে বর্ণনা করেন। বিশেষ করে শেষ দেড় দিনে ব্যাটারদের দৃঢ়তা এবং গরমের মধ্যে তাদের টিকে থাকার মানসিকতা প্রশংসনীয় ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

রাশিদ ও নবীর প্রত্যাবর্তন

আফগানিস্তান স্কোয়াডে রশিদ খান এবং মোহাম্মদ নবীর ফেরা দলকে আরও শক্তিশালী করেছে। ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্টের কারণে টেস্টে বিশ্রাম পাওয়া রশিদ খানকে নিয়ে অধিনায়ক বলেন, “রশিদ এবং নবী দুজনেই বিশ্বমানের খেলোয়াড়। যখনই আমরা কোনো টেস্ট জিতি, রশিদের ভূমিকা সেখানে থাকে। টেস্টে তাকে মিস করলেও ওয়ানডে সিরিজে তার উপস্থিতি আমাদের জন্য বড় বাড়তি পাওয়া হবে।”

প্রতিপক্ষ অধিনায়কদের ভাবনা

জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক সিকান্দার রাজা মনে করেন, আফগানিস্তানের নিজস্ব কন্ডিশন হওয়ায় তাদের ওপর বাড়তি নজর থাকবে। তবে যেকোনো দল ভালো খেললে যে কেউই শিরোপা জিততে পারে বলে তিনি মত দিয়েছেন। অন্যদিকে, বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক লিটন কুমার দাস ত্রিদেশীয় সিরিজের চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরে বলেন, “দীর্ঘদিন খেললেও ত্রিদেশীয় সিরিজের অভিজ্ঞতা আমার খুবই কম। এখানে প্রতিটি ম্যাচ গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রথম ম্যাচ হারলে নেট রান রেটসহ বিভিন্ন সমীকরণ চাপে ফেলে দেয়।” লিটন মনে করেন, বাইল্যাটারাল সিরিজের চেয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফরম্যাট সম্পূর্ণ আলাদা এবং প্রতিটি দলের লক্ষ্যই থাকে সরাসরি ফাইনালে জায়গা করে নেওয়া।

টুর্নামেন্টের প্রেক্ষাপট

  • ত্রিদেশীয় সিরিজ শুরু: ১৭ অক্টোবর, আবুধাবি।
  • অংশগ্রহণকারী দেশ: বাংলাদেশ, জিম্বাবুয়ে ও আফগানিস্তান।
  • কন্ডিশন সুবিধা: আফগানিস্তান নিয়মিত আরব আমিরাতে খেলার কারণে তাদের কিছুটা বাড়তি সুবিধা রয়েছে।
  • টেস্ট থেকে শিক্ষা: বাংলাদেশের বিপক্ষে লড়াই করে ড্র করা ম্যাচটি আফগানদের মনোবল বাড়িয়ে দিয়েছে।
  • রশিদ ও নবীর ভূমিকা: দলের অভিজ্ঞ ও বিশ্বমানের দুই অলরাউন্ডার ওয়ানডে সিরিজে ফিরেছেন।
  • টুর্নামেন্টের চাপ: ত্রিদেশীয় ফরম্যাটে প্রতিটি ম্যাচের গুরুত্ব বেশি হওয়ায় ভুলের সুযোগ নেই।
  • জিম্বাবুয়ে দলের প্রস্তুতি: আরব আমিরাতের কন্ডিশনের সাথে মানিয়ে নিতে কয়েকদিন আগে থেকেই প্রস্তুতি ক্যাম্প শুরু করেছে দলটি।