ত্রিদেশীয় সিরিজের আগে সিনিয়র ব্যাটারদের দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান লিটনের

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ওয়ানডে অধিনায়ক লিটন কুমার দাস তার দলের অভিজ্ঞ ব্যাটারদের প্রতি বিশেষ বার্তা দিয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে ওয়ানডে ফরম্যাটে দলের ব্যাটিং পারফরম্যান্স নিয়ে উদ্বেগের রেশ কাটছে না, আর এই পরিস্থিতি বদলাতে দলের সিনিয়রদের বাড়তি দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। আগামী ১৭ অক্টোবর আবুধাবিতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজ শুরু করবে বাংলাদেশ, এরপর ২১ অক্টোবর স্বাগতিক আফগানিস্তানের মুখোমুখি হবে তারা।

ব্যাটিং বিপর্যয়ের শঙ্কা ও বাস্তবতা

সাম্প্রতিক সময়গুলোতে জিম্বাবুয়ে ও আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশের ব্যাটিং দৈন্যদশা প্রকট হয়ে উঠেছে। পরিসংখ্যান বলছে, আফগানিস্তানের বিপক্ষে সর্বশেষ ওয়ানডে সিরিজে কোনো ম্যাচেই বাংলাদেশ দল পুরো ৫০ ওভার ব্যাট করতে পারেনি। একইভাবে, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেও ইনিংস শেষ করার ক্ষেত্রে বড় ধরনের সংকটে পড়েছিল টাইগাররা। এ প্রসঙ্গে লিটন বলেন, “সিনিয়র খেলোয়াড় হিসেবে আমাদের দায়িত্ব নিতেই হবে। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে এবং জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আমরা কোনো ম্যাচেই ৫০ ওভার ব্যাট করতে পারিনি। আমাদের টপ অর্ডার বা ছয়-সাত নম্বরে যারা ব্যাটিং করি, তাদের দায়িত্ব হলো ম্যাচ শেষ করে আসা।”

অতীত পেছনে ফেলে ইতিবাচক মানসিকতা

লিটন জানান, অতীত নিয়ে পড়ে থাকতে তিনি রাজি নন বরং সামনে থাকা চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় দলের সবাইকে ইতিবাচক থাকতে বলেছেন। অধিনায়ক বলেন, “অতীতের ব্যর্থতা আমাদের প্রস্তুতির অংশ হতে পারে, কিন্তু সেই দুঃস্মৃতি নিয়ে পড়ে থাকলে চলবে না। আমাদের মানসিকতা ইতিবাচক রাখতে হবে এবং আমরা প্রতিটি ম্যাচে ইতিবাচক ক্রিকেট খেলার চেষ্টা করব।”

দলে আলিস আল ইসলামের সুযোগ

বাংলাদেশ অধিনায়ক মনে করেন, ওয়ানডে দলে রহস্য স্পিনার আলিস আল ইসলামকে অন্তর্ভুক্ত করার এখনই উপযুক্ত সময়। এশিয়ান গেমসে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রাখা এই তরুণ ডিপিএল ক্রিকেটে প্রাইম ব্যাংকের হয়ে ১০ ম্যাচে ২৪ উইকেট নিয়ে সেরা উইকেটশিকারি হয়েছিলেন। লিটনের মতে, “সাদা বলের ক্রিকেটে আলিস খুব ভালো করছে। টি-টোয়েন্টিতে সে নিজেকে প্রমাণ করেছে। দলের সাথে থেকে সে অনেক কিছু শিখতে পারবে এবং তার অন্তর্ভুক্তি দলের জন্য ভালো কিছু বয়ে আনবে।”

অধিনায়কত্বের চ্যালেঞ্জ ও লক্ষ্য

এই ত্রিদেশীয় সিরিজকে ক্যারিয়ারের নতুন যাত্রার বড় সুযোগ হিসেবে দেখছেন লিটন। আসন্ন এশিয়া কাপ ও ওয়ানডে বিশ্বকাপের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এই সিরিজটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি মনে করেন। লিটন বলেন, “এশিয়া কাপে ৫-৬টি দল থাকলেও ত্রিদেশীয় সিরিজের চাপ ও পরিবেশ প্রায় একই রকম। পূর্ণাঙ্গ অধিনায়ক হিসেবে এটি আমার জন্য বড় সুযোগ। আমরা যদি আমাদের সেরা ক্রিকেট খেলতে পারি, তবে ট্রফি জেতাও অসম্ভব নয়।”

  • বাংলাদেশ ওয়ানডে দলের নতুন অধিনায়ক হিসেবে লিটনের অভিষেক হচ্ছে এই সিরিজ দিয়ে।
  • ত্রিদেশীয় সিরিজে বাংলাদেশের লক্ষ্য বিশ্বকাপের আগে নিজেদের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা।
  • তরুণ আলিস আল ইসলামের অন্তর্ভুক্তি স্পিন অ্যাটাককে আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে।